মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭


এই ভয়াবহ ব্যর্থতার ‘ভালো’ দিকটাই দেখছেন মাশরাফি


সংবাদ সমগ্র - 31.10.2017

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টাইগারদের অসহায় হারের পর ‘জাত গেল, জাত গেল’ রবই উঠেছে। তিন সিরিজেই হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ইতিবাচক কিছুই খুঁজে পাচ্ছেন না আশাবাদী দলের সেরা সদস্যও। কিন্তু ঠিকই খুঁজে পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে সংস্করণের অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে ‘শিক্ষা সফর’ হিসেবে দেখছেন তিনি। প্রোটিয়াদের মাটিতে নিজেদের করা ভুল থেকে ‘শিক্ষা’ নিয়ে ব্যক্তি ও দলগত ভাবে নিজেদের গড়তে পারলে আগামীতে ভালো কিছুই হবে বলে বিশ্বাস দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারের।


সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে আম্বার স্টুডিওতে দেশের প্রথম স্পোর্টস এফএম রেডিও স্টেশন রেডিও এজ ৯৫.৬ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মাশরাফি। অনুষ্ঠানের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বললেন তিনি, ‘ইতিবাচক জিনিস হয়তো এখানে কিছুই নেই, তবে একটা ইতিবাচক দিক হচ্ছে এটা আমাদের জন্য শিক্ষা। যারা সমালোচনা করছেন কিংবা গণমাধ্যমের জন্য নয়, এটা আমাদের জন্য। এখন আমরা এটাকে কিভাবে নেবো সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
যা হয়েছে তা ভয়াবহ। তবে তাতে ভয়ানক উদ্বেগেরও কিছু দেখছেন না মাশরাফি। এটা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল শোধরাতে পারলে সামনে ভালো কিছুই হবে বলে বিশ্বাস করেন অধিনায়ক, ‘এতো উদ্বেগের কিছু নেই। আমার মনে হয় না বাংলাদেশ ক্রিকেট এখানে থেমে থাকবে। আর ব্যাক আপে এতো খেলোয়াড় নেই যে দল পুরো বদলে দিয়ে নতুন দল এনে বিশ্বকাপ জিতে যাবেন। এটা অসম্ভব। খেলোয়াড়দেরই দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের ব্যক্তিগত ভাবে খুঁজতে হবে কোথায় ভুল ছিল। আমি থেকে শুরু করে যারা আছে সবাই। ওই ভুলগুলোতে কাজ করেই ঠিক করতে হবে। তাহলে হয়তো সবকিছু ঠিক থাকবে। অন্যথায় এটা নিয়মিত হতে থাকবে।’
নেতিবাচক অনেক কিছুর মাঝ থেকে ইতিবাচক ব্যাপারটাই সবার আগে খুজে বের করতে জানেন মাশরাফি। তারপরও প্রশ্ন থাকে। আসলেই কি শিক্ষা পেয়েছে টাইগাররা? আসলেই কি ভালো হয়েছে? এমন প্রশ্নে দৃঢ়তাই ফুটে ওঠে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘অবশ্যই ভালোর জন্য হয়েছে। আমি সবসময় বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে গেলে তেমন পরিস্থিতিতে থাকা উচিৎ। পরিস্থিতির চেয়ে বড় আমাদের কেমন অনুশীলন থাকা উচিৎ। আমরা অনুশীলন ওইভাবে করিনি। মানসিক দিক কেমন থাকা উচিৎ। মানসিকভাবে কিভাবে শক্ত হতে হয় এই সফর থেকে আমরা শিখতে পারি।’
এর আগে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এটাকে দলের জন্য ‘এলার্মিং’ বলেছিলেন মাশরাফি। যদিও কিছু গণমাধ্যমে এই শব্দটিকে বাংলা করতে গিয়ে ‘অশনি সংকেত’ কিংবা ‘বিপদ সংকেত’ লেখা হয়েছে। এটাতেই মাশরাফির আপত্তি। নিজেই তার ব্যবহৃত ওই শব্দটির ব্যাখ্যা দিয়ে এবার জানালেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকতেই আমি বলেছিলাম এটা এলার্মিং। এটা কোন বিপদ সংকেত হিসেবে নয়। এটা আমি এভাবে ব্যবহার করিনি। আমি বলতে চেয়েছিলাম, এটা আমাদের জন্য এলার্মিং এজন্য কারণ পরের বছর আমরা দ্বিগুণ অ্যাওয়ে সিরিজ খেলতে যাবো। এর পরপরই বিশ্বকাপ আছে। তাই এটা একদিক থেকে তাই আমাদের জন্য ভালোই হয়েছে। আমরা যারা খেলেছি তাদের জন্য এটা অবশ্যই একটা শিক্ষা।’
একটা সিরিজ হারের পরই বাংলাদেশের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। ভুলে গেছেন কদিন আগেই এই টাইগাররাই ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমি ফাইনালে খেলেছে। গেল গেল রবে তাই কিছুটা বিরক্তিও ফুটে ওঠে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘আসলে এ নিয়ে তো অনেক কথাই হয়েছে। কথা বেশি হওয়াতে এতো কিছু হয়েছে। সব কিছুতে বেশি কথা না বলাই ভালো। আপনারাও ছাড়েন না আমরাও ছাড়তে পারিনা। এটাই সমস্যা।’




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close