মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » Box 1 » চোখের সামনে ওভারলোডেড গাড়ি চললেও কিছুই করতে পারি না: সেতুমন্ত্রী


চোখের সামনে ওভারলোডেড গাড়ি চললেও কিছুই করতে পারি না: সেতুমন্ত্রী


সংবাদ সমগ্র - 25.10.2017

ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাস্তায় থাকলে চোখের সামনে দেখি মহাসড়কগুলোতে ওভারলোডেড গাড়ি চলছে। কিন্তু কিছুই করতে পারি না।’ বুধবার (২৫ অক্টোবর) সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের ৪১তম সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আক্ষেপের সুরে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মহাসড়কটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার নখদর্পণে। অনেক টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এটি। এই মহাসড়ক এখন রাষ্ট্রের সম্পদ। মাত্র এক বছরের মাথায় যখন দেখি সেই সড়ক ধংসের দ্বারপ্রান্তে, তখন চোখে পানি এসে যায়। মনে মনে ভাবি, এত কষ্ট করলাম এই সড়কটির জন্য, কিন্তু কী লাভ হলো। প্রধানমন্ত্রী নিজে সড়কটি উদ্বোধন করেছেন। সেই সড়কই কিনা তিলে তিলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’


আশংকা ব্যক্ত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গোমতীসহ তিনটি সেতু রয়েছে। ওভারলোডেড গাড়ি চলার কারণে একটি সেতু পড়ে গেলে সারাদেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। এই ওভারলোডের গাড়ি চলার কারণে নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত সুন্দর রাস্তাটি শেষ হয়ে গেছে।’
ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে এ পর্যন্ত ১৭৯ বার সেখানে গেছেন তিনি। একইভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ দেখতে গেছেন কমপক্ষে ১০০ বার। এগুলো রেকর্ড বলেও দাবি তার।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর ভাষ্য, ‘যে কোনও মূল্যে রাস্তা বাঁচাতে হবে আমাদের। রাস্তা রক্ষা করতে আইন ও নিয়ম উভয়ই মানতে হবে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান মনে করেন, প্রয়োগ করা হলে দেশের মানুষ আইন মানে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন আর কেউ উল্টো রাস্তায় চলে না। রাস্তায় ওভারলোড হচ্ছে সত্যি। এটি ঠেকাতে হবে।’
এক্ষেত্রে নৌমন্ত্রীর পরামর্শ— যেখান থেকে গাড়িতে মাল ওঠানো হয় সেখান থেকেই ওভারলোড কন্ট্রোল করতে হবে। বিশেষ করে বন্দর থেকে ট্রাকে পণ্য ওঠানোর সময়ই যদি এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে সুফল পাওয়া যেতে পারে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর দাবি, সাড়ে ১৫ টনের বেশি পরিবহন করলে রাস্তার ক্ষতি হবেই। সড়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব জানান, দুই হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে ৬০ টনের গাড়ি ছেড়ে দিলে তো রাস্তার ক্ষতি ঠিকই হচ্ছে।
রাস্তায় একটি ট্রাক ৫৩ টন মালও পরিবহন করে বলে সভায় জানান পরিবহন শ্রমিক নেতা ওসমান গণি। তার কথায়, ‘জরিমানা দিয়ে রাস্তায় ওভারলোড গাড়ি রাস্তায় চলতে দেবো না আমরা।’
এই সমস্যা নিরসনে সড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেন সেতুমন্ত্রী। এই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপারিশ সংবলিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই সুপারিশের আলোকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সভায় আরও ছিলেন স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সচিব জুয়েনা আজিজ, পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জাবেদ পাটোয়ারী।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close