মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭


খালেদা জিয়ার পরে কে?


সংবাদ সমগ্র - 25.10.2017

দীপ আজাদ : শিরোনাম দেখে অনেক প্রশ্নই মনে হতে পারে। হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন কেন? প্রথম কারণ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয় এটা সবাই জানেন। দ্বিতীয় কারণ হলো নির্বাচন আন্দোলনসহ সামনে বিএনপির যে কঠিন সময় আসছে তা মোকাবেলার জন্য যে বাড়তি এফোর্ট দিতে হবে তার জন্য তিনি সামাল দিতে পারবেন কি না? তিন, কারাবাস বা নির্বাচনের জন্য তিনি অযোগ্য হলে, কী হবে?

এ সব কারণেই প্রশ্ন উঠছে খালেদা জিয়ার পরে কে বিএনপির হাল ধরবেন। যারা বিএনপি করেন বা সমর্থক হিসেবে পরিচিত তারা বলবেন এটা তো সহজ উত্তর। খালেদা জিয়ার বড় পুত্র তারেক রহমান দলের হাল ধরবেন। তারেক রহমান আবার দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। মা খালেদা জিয়ার পরেই দলে তার অবস্থান। যদিও অনেকে বলেন তারেক রহমানই বিএনপি চালান।
বাস্তবতা আসলে কি তাই? দলের প্রথম সারির নেতারা মুখ না খুললেও মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা তারেক রহমানকে বিএনপির উত্তরসূরি ভাবছেন না। অনেকে খালেদা জিয়ার বড় ছেলেকে দলের জন্য বোঝা মনে করেন। বিএনপির আজকের অবস্থার জন্য তারেক রহমানকে অনেকাংশেই দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দায়ী করেন।
বিশেষ করে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতা থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার পাশাপাশি একটি সমান্তরাল শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন তারেক রহমান। তার নিয়ন্ত্রনাধীন হাওয়া ভবন থেকে আরেকটি সরকার পরিচালিত হতো। হাওয়া ভবনের গল্প নতুন করে কিছু বলার নেই। হাওয়া ভবনে কি কাজ হতো তা খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের নেতাকর্মীরা কম বেশি সবই জানতেন।
দলের সিনিয়র নেতাদের ধীরে ধীরে সাইড করে দিয়ে বিশেষ করে যারা জামায়াত বিরোধী ছিলেন তাদেরকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দেন তারেক রহমান। বিএনপি ও তৎকালীন সরকারকে সব মহলে অজনপ্রিয় করে তোলেন তারেক রহমান ও তার সঙ্গীরা। সীমাহীন দুর্নীতির বিষয়টা পাবলিক পারসেপশনে পরিনত হয়।
৭৫’র ১৫ আগস্টের পর আরেকটি ভয়াবহ রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যায় তারেক রহমানের হাওয়া ভবনের। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনার সাথে হাওয়া ভবনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ ঘটনার পরে শেখ হাসিনাকে দেখতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা থেকে যখন তাকে জানানো হয় যে, ঘটনার সাথে কারা জড়িত, তখন খালেদা জিয়া পিছিয়ে আসেন।
প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যার বিষয়টি সামনে আসার পর বিএনপির আগামী দিনের উত্তরসূরি নিয়ে নতুন করে দলের সব পর্যায়েই ভাবনা শুরু হয়। এক এগারোর পর এ আলোচনা আরো গতি পেয়েছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা রয়েছে। এ সব মামলা তাকে মোকাবেলা করতে হবে।
তাহলে কী খালেদা জিয়ার হাতে বিকল্প নেই ? বিকল্প আছে। তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান। বর্তমানে খালেদা জিয়ার একমাত্র বিকল্প। জোবায়দা রহমানকে ঘিরে দলের মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা স্বপ্ন দেখছেন। অনেক জায়গাতে জোবায়দা রহমান সমর্থক গোষ্ঠী, আরো ভিন্ন ভিন্ন নামে নেতাকর্মীরা উপদল তৈরি করেছেন।

জোবায়দা রহমানের নাম গত কয়েক বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা হচ্ছে। যদিও তা কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়। এ সব আলোচনার বিষয়ে জোবায়দা রহমান বা পরিবারের কেউ কোন মন্তব্য করেছেন বলে শুনি নাই।
বিএনপির মত দলকে নেতৃত্ব দিতে জোবায়দা রহমান কতটা প্রস্তুত আছেন, সেই প্রশ্নের জবাব তিনিই ভালো দিতে পারবেন। তবে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি কখনো পর্দার বাইরে আসেন নাই। সরকার বা দলের কোন কর্মকাণ্ডেও তাকে দেখা যায় নাই। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পরও জোবায়দা রহমানকে প্রকাশ্যে তাকে কোথাও দেখা যায় না।
ক্যান্টনমেন্ট থেকে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি তার জন্মের পর এত কঠিন অবস্থায় আর কখনো পড়ে নাই। টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দলটি। এক বছর পরেই নির্বাচন। একদিকে খালেদা জিয়াসহ নেতাদের শত শত মামলা, অপরদিকে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি। এ সব সমলাতে ব্যর্থ হলে দলটি আরো এক মেয়াদ অর্থাৎ টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে থাকতে হবে। সেটি মানার জন্য বিএনপি প্রস্তুত কি না তা নীতি নির্ধারকরাই ভালো বলতে পারবেন।

তবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরসূরির দিক দিয়ে খালেদা জিয়ার থেকে বেশ এগিয়ে আছেন। তার হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে। এক্ষেত্রে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এগিয়ে আছেন। দলে তার সদস্যপদ রয়েছে পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। দলীয় ও সরকারি কাজ কর্মে তিনি নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। দু’দিক থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন জয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ই পরবর্তীতে দলের হাল ধরবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এমনটাই মনে করেন।

একমাত্র মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আরেক বিকল্প শেখ হাসিনার। পুতুল দলে ও সরকারে না থেকেও এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজস্ব ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। অটিস্টিক ইস্যু নিয়ে তার নিজস্ব একটি পরিচয় দাঁড়িয়ে গেছে।
শেখ হাসিনার পাশে সার্বক্ষণিক আপন মানুষ থাকছেন। ছোট বোন শেখ রেহেনা নেপথ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন দল ও সরকার পরিচালনায়। তাঁর পরামর্শে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী অনেক কাজ করেন তা প্রকাশ্যে কয়েকবারই বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে আপন রক্তের যে একটি বলয় রয়েছে, সেখানেই খালেদা জিয়ার রয়েছে বিশাল ঘাটতি। তার পাশে যেমন আপন মানুষ নেই, একমাত্র বিকল্প পুত্রবধু ডা. জোবায়দা রহমান দল বা সরকারের সাথে কখনো যুক্ত ছিলেন না। আগামীতে খালেদা জিয়ার জন্য এটাও কম চিন্তার বিষয় না।
পরিবারের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে তার উদাহরণ তো অনেকবার দেখা গেছে। ফলে উত্তরসূরি খুঁজে রাখা বা তৈরি করার কোন বিকল্প নেই তাদের সামনে।
দীপ আজাদ: সাংবাদিক।
[email protected]




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close