মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » Box 1 » রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য সংকট, আলুতে পচন


রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য সংকট, আলুতে পচন


সংবাদ সমগ্র - 19.10.2017

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সদর ইউনিয়নের তিনটি আশ্রয় শিবিরে বেশ কিছু দিন ধরে খাদ্য সরবরাহ ও ত্রাণ তৎপরতা কমে যাওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে চাকঢালা এলাকায় একটি স্কুলের কক্ষে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখা ত্রাণের আলু পচে গেছে। এসব পচা ত্রাণ রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে সরবরাহ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন রোহিঙ্গারা। পরে এসব পচা আলু মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।

খাদ্য সংকট :
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সদর ইউনিয়নের চাকঢালা সীমান্তের সাপমারা ঝিরি, বড় ছনখোলা ও ফুলতলির ৩টি আশ্রয় শিবিরে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেখানে খাদ্য সংকট দেখা দেয়।
এছাড়া আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সেখানে ত্রাণ তৎপরতাও কমেছে। ফলে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গারা স্থানীয় বাজারগুলো থেকে এখন খাদ্য কিনে নিচ্ছেন।
চাকঢালার ৩টি আশ্রয় শিবিরে বর্তমানে প্রায় দশ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছেন। খুব শিগগিরই এসব আশ্রয় শিবিরে খাদ্য সরবরাহ করা না হলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত ২৪ আগষ্টের মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার পর নাইক্ষ্যংছড়ির চাকঢালা সীমান্তের বড় ছনখোলা, ফুলতলি ও সাপমারা ঝিরিতে দশ হাজারেও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়।
তিনি জানান, প্রথম দিকে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ ত্রাণ দেয়। এছাড়া চাকঢালার স্থানীয় একটি স্কুলের কক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের দেয়া পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রাখা হয়।
ইউপি সদস্য ফরিদুল আলম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের উখিয়ায় সরিয়ে নেয়ার পর চলতি মাসেই চাকঢালার ৩টি আশ্রয় শিবির থেকে বাকি রোহিঙ্গাদেরকেও সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু নানা সমস্যায় রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিতে দেরি হওয়ায় এসব আশ্রয় শিবিরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
আশ্রয় শিবিরগুলোর রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রথম দিকে পর্যাপ্ত ত্রাণ দেয়। পরে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে ত্রাণ তৎপরতা কমে গেছে। বর্তমানে ৩টি আশ্রয় শিবিরে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
তারা জানান, তেল, পিঁয়াজ, আটাসহ অন্যান্য ত্রাণ কিছু থাকলেও পর্যাপ্ত চাল নেই।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তরা সরওয়ার কামালের দাবি, আপাতত আশ্রয় শিবিরগুলোতে ত্রাণের কোনো সংকট নেই। সেসব ত্রাণ মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী কয়েক দিন ত্রাণ দেয়া যাবে।
তবে রোহিঙ্গাদের সেখান থেকে উখিয়ায় সরিয়ে নেয়ার সিন্ধান্তের কারণে ত্রাণ তৎপরতা কমেছে বলে স্বীকার করেন ইউএনও।

ত্রাণে পচন :
সাপমারা ঝিরিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নুরুল আলম ও দিল মুহাম্মদ জানান, বুধবার রোহিঙ্গাদের মাঝে পচা আলু ও কিছু চাল নিয়ে আসা হয়। এগুলো তারা গ্রহণ করেনি। ত্রাণগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
এদিকে চাকঢালা এলাকার সামসুল আলমসহ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাকঢালা স্কুলে রোহিঙ্গাদের জন্য রাখা ত্রাণে পচন ধরেছে। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মজুদ রাখা বেশ কিছু চালেও পচন ধরেছে।
নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল মজুদ করা কিছু ত্রাণে পচন ধরার কথা স্বীকার করেন।
এছাড়া চাকঢালার আশ্রয় শিবিরে খাদ্য সংকটের কথাও জানান তিনি।

মজুদের হিসাব :
ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য ১৪ হাজার ৬১৫ কেজি চাল, ১১২৮ কেজি ডাল, ১৭৫২ কেজি লবণসহ অন্যান্য মালামাল মজুদ রয়েছে।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটর সাধারণ সম্পাদক একে এম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন, আশ্রয় শিবিরগুলোতে দেয়া ২১ দিনের ত্রাণ শুক্রবার শেষ হবে। তবে শনিবার থেকে ফের আশ্রয় শিবিরগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ করা হবে।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close