সোমবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » Box 1 » ‘গণহত্যা চালিয়েও পার পেয়ে গেল মায়ানমার, এটা বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরাজয়’


‘গণহত্যা চালিয়েও পার পেয়ে গেল মায়ানমার, এটা বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরাজয়’


সংবাদ সমগ্র - 29.09.2017

নিউইয়র্ক: রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করে আসছিল সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিরোধীদের এমন অভিযোগ নাকচ করে আসছে সরকার।

অবশেষে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ও বিরোধী পক্ষের দাবি মূলত অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে।

কূটনীতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পষ্টতই মায়ানমারের কূটনীতির কাছে বাংলাদেশ সরকার হেরে গেছে। আগে থেকে তৎপর হলে এমনটি না হওয়ারই সম্ভাবনা ছিল। কেননা, সব পরিস্থিতিই বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল।

মহান মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকার কূটনৈতিকভাবে খুবই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার পরও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। চীন ও রাশিয়াকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উচিত ছিল চীন ও রাশিয়া সরকারের কাছে সর্বদলীয় প্রতিনিধি পাঠানো। কিন্তু তারা তা করেনি। এর ফলে যা হবার তাই হয়েছে। মায়ানমার গণহত্যা চালিয়েও পার পেয়ে গেল। এটা আমাদের সরকারের খুবই ব্যর্থতার পরিচয়। এটা মায়ানমারের কাছে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরাজয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

এদিকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে উন্মুক্ত আলোচনায় কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সমাধান আসেনি। মায়ানমারকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধের অভিযান জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বৈঠকে নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই মায়ানমারে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা বিবরণ তুলে ধরেন।

তবে মায়ানমার প্রতিনিধি এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন।

এদিকে চলমান পরিস্থিতিতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বিরোধীতা করছে প্রভাবশালী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়া।

বৈঠকের শুরুতেই জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টেনিও গুটেরেস বলেছেন, মায়ানমারে সহিংসতা বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম শরণার্থী সমস্যার সৃষ্টি করেছে যা কিনা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মহাসচিব মায়ানমার সরকারকে সেই সেনা অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান যা কিনা গত মাসে প্রায় পাঁচ লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দেশছাড়া করেছে।

তিনি তার বক্তব্যে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন।

রাখাইনে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতি দেশটির বৈরি আচরণে গুটেরেস তার উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন এবং অবিলম্বে সেখানে মানবিক সহায়তা প্রবেশের দাবি জানান।

গুটেরেস বলেন, রাখাইনে সেনা অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং সেখানে মানবিক সহায়তার সুযোগ দিতে হবে।
পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে কোন বৈষম্যছাড়াই নিজ গ্রামে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মায়ানমার সরকারের প্রতিও আহবান জানান।

তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা মায়ানমারের অন্য এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন।

তবে নিরাপত্তা পরিষদের এ বৈঠকে চীন ও রাশিয়া আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

এ বৈঠকে মায়ানমারের একজন প্রতিনিধি ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিও বক্তব্য দিয়েছেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি নিক্কি হেলি রাখাইনের পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত মায়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার আহবান জানিয়েছেন।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close