রবিবার ২২ অক্টোবর ২০১৭


যত্নে থাক রান্নাঘর


সংবাদ সমগ্র - 19.09.2017

এখন শরৎকাল। তবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি পড়ে অঝোরধারায়। গুমোট গরম আর হঠাৎ বৃষ্টিতে রান্নাঘরে দরকার পড়ে বাড়তি যত্নের। বৃষ্টি হলে বাড়িতে বিশেষ করে রান্নাঘর ও বাথরুমে ভেজা স্যাঁতসেঁতে ভাব চলে আসে। নানান রকম ছত্রাক ও পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা যায় রান্নাঘরে। সেই সঙ্গে শখের জিনিসে মরিচা পড়ার ভয় তো আছেই। এ কারণে রান্নাঘরের জিনিসপত্রের জন্য দরকার হয় কিছু বিশেষ যত্ন।

একমাত্র নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এ থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। বাসার ভেতরের আর্দ্রতা দূর করার জন্য বৃষ্টি যখন থাকবে, তখন জানালা–দরজা খুলে রেখে বাতাস চলাচলের সুযোগ দিন।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের প্রভাষক তাসমিয়া জান্নাত জানান, রান্নাঘরে সংরক্ষণ করা শস্য এবং মসলাপাতির নিতে হবে বাড়তি যত্ন। কারণ, এক ফোঁটা পানি বা আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এগুলো পোকা ধরে যেতে পারে বা নষ্ট হতে পারে। হাতের কাছে সব সময় পরিষ্কার সুতি কাপড় রাখুন।

রান্নাঘরের কাজ শেষে কাপড় দিয়ে মুছে কেবিনেটে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। এখন বৃষ্টি হলে লবণে প্রায়ই পানি উঠতে পারে। লবণের বয়ামে শুকনা মরিচ রেখে দিলে এ সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে। একই কারণে চালেও পোকা হয় এ সময়ে। চালে শুকনো নিমপাতা অথবা কয়েকটি রসুন রেখে দিলে পোকা দূর হবে বলে জানান তাসমিয়া জান্নাত।

কিচেন কেবিনেটের গায়ে তেল-কালি তুলতে প্রতিদিন রান্নার পর ডিশ ওয়াশিং লিকুইড বা মাইল্ড ডিটারজেন্ট গরম পানিতে গুলে ক্যাবিনেটের বাইরের অংশ মুছে ফেলুন। তারপরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছুন। না হলে কবজা ও ছিটকিনিতে জং ধরে যেতে পারে। যদি কীটনাশক স্প্রে করতে হয়, তাহলে রাতে সব কাজ শেষে কীটনাশক স্প্রে করুন। খাবার সব উপকরণ ও বাসনপত্র সরিয়ে নিন তখন।

এ সময় ছুরি, দা, বঁটিতে মরিচা ধরা বিরক্তিকর ব্যাপার। এ ধরনের জং বা মরিচা যেন না ধরে, এ কারণে আপনি চাইলে বছরে দু–তিনবার নারকেল বা অন্যান্য তেল দিয়ে এগুলো পরিষ্কার করতে পারেন। এতে করে একেবারেই মরিচা ধরবে না। এ ছাড়া লোহা বা স্টিলের যেকোনো জিনিস ধুয়ে অবশ্যই শুকাতে হবে।

যেকোনো কিছু শুষ্ক রাখতে সিলিকা জেলের ছোট প্যাকেটগুলো ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক জিনিসগুলোতে। বাড়িতে ছোটখাটো অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসই লোহা বা স্টিলের তৈরি। এসব জিনিস মরিচা থেকে রক্ষা করতে সব সময় শুকনো স্থানে রাখুন।

প্রশান্তির রান্নাঘর পেতে বাড়ির বা ফ্ল্যাটের নর্থ-ইস্ট বা নর্থ-ওয়েস্ট কিচেন একদম আদর্শ জায়গা বলে মনে করেন ইকো ইনভেটরসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ফারজানা গাজী। এতে রান্নাঘরে থাকবে যথেষ্ট আলো, প্রায় সারা দিন ধরে এবং রান্নাঘর থাকবে শুকনো।

রান্নাঘরের প্রতিটি জিনিস ধুয়েমুছে রাখা উচিত বলে মনে করেন ফারজানা গাজী। মাছ-মাংস কাটার পর জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে ফেলতে হবে। রান্নাঘরের বদ্ধ ও ঢাকনাযুক্ত জায়গাগুলো মাঝে খুলে দিতে হবে, যাতে ভ্যাপসা গন্ধ না হয়। পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ময়লা কখনো জমিয়ে রাখা উচিত নয়, প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন ফেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। সব সময় ঢাকনাযুক্ত ঝুড়িতে ময়লা রাখতে হবে। এ ছাড়া এয়ার ফ্রেশনারও ব্যবহার করা যেতে পারে। রান্নাঘরে স্নিগ্ধ ভাব আনতে ছোট গাছ কিংবা ফুল রাখতে পারেন। দেয়ালের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিতে পারেন প্লাস্টিকের কোনো লতা। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া রান্নাঘর স্যাঁতসেঁতে ভাব এবং ধোঁয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করতে পারেন কিচেন হুড।

রান্নাঘরের পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের প্রতি অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। কারণ, এখানেই পরিবারের সবার জন্য খাবার তৈরি হয় এবং ব্যয় হয় গৃহিণীর দিনের অনেকটা সময়। তাই একটু বাড়তি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রান্নাঘরকে সুন্দর রাখবে, সঙ্গে জিনিসপত্রগুলোও থাকবে সুরক্ষিত।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close