বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০১৭


‘ভোটের দিনেই সকালে কেন্দ্রে যাবে ব্যালট-বাক্স’


সংবাদ সমগ্র - 25.07.2017

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ রয়েছে সরগরম। নির্বাচন নির্বাচন কমিশন (ইসি) এরই মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৬ জুলাই একটি কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের মাধ্যমে শুরু হবে সংলাপ পর্ব। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ইসি। ভোটের আগের রাতে ব্যালট ছিনতাই ও সিল মেরে বাক্সে ভরে রাখা বন্ধ করতে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স পৌঁছানোর কথা ভাবছে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।


ইসি সূত্র জানায়, প্রায়ই নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া যায়। অনেক সময় এসব কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কোনো কোনো স্থানে ইসি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে থাকে।
তাই কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে আরো সুন্দরভাবে করা যায় তা চিন্তা করছে। এতোদিন ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল পৌঁছে দেওয়া হতো। সেগুলো এখন নির্বাচনের দিন সকালে পাঠানোর চিন্তা করা হচ্ছে।
এগুলো পৌঁছাতে যেহেতু একটু সময় লাগতে পারে তাই ভোটগ্রহণ শুরুর সময় সকাল ৮টা থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে ৯টা করার কথাও ভাবছে কমিশন।

এ বিষয়গুলো সুশীল সমাজসহ রাজনৈতিক দল ও অন্যান্যদের সঙ্গে কমিশনের সংলাপের বিষয়েও রাখা হবে বলেও ইসি সূত্রে জানা যায়।
এ ব্যাপারে ইসির সদ্য বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে যেহেতু ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা ডিজিটাল ভোটিং মেশিন (ডিভিএম) কোনোটাই ব্যবহার করা যাচ্ছে না, তাই কমিশন চিন্তা করছে নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে কিভাবে আরো স্মার্ট করা যায়।’
‘এ ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স নির্বাচনের দিন সকালে ভোটকেন্দ্রে নেওয়া যায় কিনা কমিশন সেটি চিন্তা-ভাবনা করছে। প্রয়োজনে ভোট সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার পরিবর্তনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্রহণ করার বিষয়েও চিন্তা করা হচ্ছে,’ বলেন বিদায় নেওয়া এই ইসি সচিব।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রক্রিয়া আরো সহজ, প্রিজাইডিং অফিসারের চাপ কমানো এবং পোলিং স্টেশনের কার্যক্রমও সহজ করা হবে।’
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আরো বলেন, ‘বর্তমানে প্রিজাইডিং অফিসারকে কাপড় কেনার জন্য কিছু টাকা দেওয়া হয়। তারপর কোথাও ব্ল্যাকবোর্ড, কোথাওবা টেবিল লাগিয়ে তৈরী করা হয় গোপন কক্ষ। এতে ভোটাররা অনেক ক্ষেত্রেই গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন না।’

‘গোপন কক্ষের বেষ্টনি স্মার্ট এবং স্থায়ী করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ভোট শেষে এগুলো ভাজ করে উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিসে সংরক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতেও ব্যবহার করা যাবে,’ বলেন তিনি।
মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আগে কাগজপত্র নিতে ছালার চট/ব্যাগ ব্যবহার করা হতো। এখন বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ আছে। ব্যাগটাও এখন স্মার্ট হতে পারে। হয়তো তাতে খরচ একটু বাড়বে। ব্যাগটা কেউ খুললে তার রেকর্ডও যাতে সেখানে থাকে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রাবার স্ট্যাম্পের সিল ব্যবহার করা হয়। যার কালি আলাদা থাকে। অনেক সময় সেই কালীতে অনেকের জামা-কাপড়ও নষ্ট হয়। তাই এর পরিবর্তে আমরা অটোসিল ব্যবহারের চিন্তা করছি। এটা হলে ভোটারদের ভোট দিতেও সময় কম লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘মার্কার পেন যেটা আছে চিহ্ন দেওয়ার জন্য, বিভিন্ন দেশে এর পরিবর্তে এখন কলম ব্যবহার করা হচ্ছে। গালা, মোমবাতি, দিয়াশলাই, সুঁচ, শলাকা এই যে সনাতন পদ্ধতিতে যেগুলো ব্যবহার করা হয়, এগুলো থেকে আমরা স্মার্টে যেতে পারি।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close