বুধবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭


সাম্প্রদায়িকতায় ধরাশায়ী নেতৃত্ব


সংবাদ সমগ্র - 12.07.2017

জসিম উদ্দিন : পশ্চিমা সভ্যতা হুমকির মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পশ্চিমাদের ইচ্ছা আছে কি না, সে প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। পোল্যান্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যেসব দেশ নিজেদের সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে প্রস্তুত, পোল্যান্ড তাদের একটি উদাহরণ। অভিবাসনবিরোধী ও জাতীয়তাবাদী সঙ্কীর্ণ চিন্তার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নীতির অনুসারী বর্তমান পোল্যান্ড সরকার। তিনি যখন সঙ্কটের জন্য পোলিশ স্মৃতিসৌধকে সামনে রেখে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দায়ী করছেন, তখন নাৎসিবাদের ব্যাপারে তার কোনো সমালোচনা নেই। নাজিবাদের উত্থানের সাথে বর্তমান ট্রাম্প ও পোলিশ সরকারের নীতির সংযোগ রয়েছে। উগ্র জাতীয়তাবাদী চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়নের ফলে বিশ্বে বিপুল ধংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটেছিল। ট্রাম্প যেভাবে স্বাদেশিকতার একরোখা দাবি নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার করেছেন, হিটলারও প্রায় একই ধরনের প্রচারণা চালিয়ে জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে আসেন।
১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে প্রায় দুই লাখ পোলিশকে জীবন দিতে হয়েছে। তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধের সামনে জি-২০ সম্মেলনের এক দিন আগে ট্রাম্প এ ভাষণ দেন। জার্মান চ্যান্সেলর মারকেল কঠোর সমালোচক ট্রাম্পের। মুসলিম নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যনীতির অন্যায্যতা নিয়ে তিনি শুরু থেকে কথা বলেছেন। অন্য দিকে ট্রাম্প গোড়া থেকে মারকেলের সমালোচক। তার মতে, জার্মান উদ্বাস্তুনীতি একটি ‘সর্বনাশা ভুল’। জি-২০ সম্মেলনকে সামনে রেখে ট্রাম্প মারকেল বাগযুদ্ধ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তার সূত্র ধরে পিউ রিসার্চ সেন্টার জরিপ চালায় এই দুই নেতাকে নিয়ে। বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনায় অ্যাঞ্জেলা মারকেলকে যোগ্য মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-২০ভুক্ত দেশগুলোর বেশির ভাগ মানুষ।
জি-২০ সম্মেলনকে সামনে রেখে তার আগের দিন ৫ জুলাই পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি মানুষ তাদের প্রেসিডেন্টের তুলনায় জার্মান চ্যাঞ্চেলরের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। ৫৬ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে ট্রাম্পের চেয়ে মারকেল অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারবেন। একই ব্যাপারে ট্রাম্পকে যোগ্য মনে করেন ৪৬ শতাংশ মার্কিনি। অন্যান্য দেশের মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপেও একই ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে। ব্যতিক্রম ভারত ও রাশিয়ার মানুষ। তারা তুলনামূলক ট্রাম্পের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ট্রাম্পকে জয়ী করানোর জন্য দেশটির গোয়েন্দারা হিলারির বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। অন্য দিকে ভারত নিজের স্বার্থে মার্কিনঘেঁষা হতে শুরু করেছে।
ইউরোপের আরেকজন নেতা দৃশ্যমান হয়ে উঠছেন। তিনি হচ্ছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। বয়সে তরুণ হলেও কাজকর্মে দূরদর্শিতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিচ্ছেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জলবায়ু চুক্তির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মত পরিবর্তন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করলেন। বাস্তিল দিবসে আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে তিনি নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিত হয়ে বাস্তিল দিবসে অংশ নিলে ট্রাম্পের মতকে তিনি প্রভাবিত করতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস। সিরিয়া প্রশ্নে ম্যাক্রোঁ দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। রাশিয়া চাচ্ছে বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় থাকুক। অন্য দিকে আমেরিকা ও তার মিত্ররা তাকে পদচ্যুত করতে চায়। ম্যাক্রোঁ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, আসাদ আবার যদি রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে তাহলে ফ্রান্স এর জবাব দেবে সামরিক কায়দায়। প্রকাশ্যে এ ধরনের অবস্থান নেয়ার সাহসিকতাকে ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্সের প্রফেসর জাকি লেইডি ফ্রান্সের সাবেক নেতা চার্লস ডি গলের সাথে তুলনা করেছেন। দৃশ্যত এ ধরনের শক্ত অবস্থান রাশিয়ার বিরুদ্ধে হলেও পুতিনকে তিনি নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মে মাসের শেষ সপ্তাহে প্রথম বিদেশী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এলিসি প্রাসাদে ম্যাক্রোঁর সাথে পুতিনের বৈঠক হয়।
যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গিয়ে অনেকটাই একাকী হয়ে গেছে। ব্রিটেনে এখন চলছে নেতৃত্বের খরা। জনগণের স্পষ্ট ম্যান্ডেট নিয়ে কোনো নেতা এখনো সামনে এসে দাঁড়াতে পারেননি। লড়াই চলছে থেরেসা মে, জেরেমি করবিনসহ প্রতিযোগী নেতাদের মধ্যে। কারো ওপর জনগণ এখন পর্যাপ্ত আস্থা রাখেনি। এ অবস্থায় ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সে অনেকটা একক নেতা হিসেবে সামনে এসেছেন। অর্থনীতির খরা কাটিয়ে উঠছে দেশটি। এর ভিত শক্তিশালী হয়ে উঠলে বিশ্বপর্যায়ে আমেরিকা ও ব্রিটেনের শূন্যস্থান জার্মানির পাশাপাশি ফ্রান্স সফলভাবে পূরণ করতে পারে। জলবায়ু চুক্তি নিয়ে এরদোগান জি-২০ সম্মেলনে হতাশা প্রকাশ করলে ম্যাক্রোঁ তার পাশে এসে দাঁড়ান। তাকে জলবায়ু ফান্ডের অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেন। ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে আমেরিকা ও রাশিয়ান প্রেসিডেন্টের সাথে বোঝাপড়া করার লক্ষ্য সামনে রেখে বিশ্বপর্যায়ে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখার ইঙ্গিত দিলেন।
বিশ্বায়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ম্যাক্রোঁ ও মারকেল অগ্রসর হওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে মারকেল যখন উদার অভিবাসী নীতি গ্রহণ করেছেন। একইভাবে অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের জন্য ইউরোপকে আহ্বান জানাচ্ছেন। তখন বিশ্বনেতৃত্বের মধ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ধর্ম একটি মৌলিক ফ্যাক্টর হিসেবে এখানে কাজ করছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা প্রথম ধর্মীয় পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলছে। পোল্যান্ডে গিয়ে যে সভ্যতা রক্ষার ডাক তিনি দিয়েছেন, এর মধ্যে রয়েছে খ্রিষ্টীয় ইজম। ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞানের যে বিপ্লব তাকে প্রকাশ্যে খ্রিষ্টান ধর্মের সাথে সম্পর্কিত তিনি করেননি। তবে তার সমালোচনার অন্যতম লক্ষ্য উগ্রবাদ। এ জন্য তিনি একটি ধর্মকে অভিযুক্ত করেন। এতে করে বোঝা যায়, সভ্যতা রক্ষা মানে নিজের ধর্মকে তিনি অন্তর্ভুক্ত করে নিচ্ছেন। তার আশঙ্কা ইউরোপীয় সভ্যতাকে ধ্বংস করে দেবে এই উগ্রবাদ। আমেরিকা ও ইউরোপের ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশকে সম্ভবত তিনি সভ্যতা বলে আখ্যায়িত করতে চান। ট্রাম্প দেশ শাসনের যে নীতি নিচ্ছেন, সেটা এই ব্যক্তিস্বাধীনতার বিপক্ষে যাচ্ছে। তার কর্মকাণ্ডে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ও সাদারা স্বাধীন, বাকিরা নয়।
পোল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী সরকার কায়েম হয়েছে। তারা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি নিয়েছে। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় বোঝাতে চাচ্ছেন, ইউরোপের দেশে দেশে এমন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপের দেশগুলো সভ্যতা রক্ষা করতে পারে। ট্রাম্প নিজে যেমন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আমেরিকার সভ্যতা রক্ষা করছেন। ইসরাইলের প্রতি আনুকূল্য প্রদর্শনও একই নীতির অংশ। ইসরাইলের চাহিদা হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করে সেখানে ইহুদিদের বসতি স্থাপন। পশ্চিম তীরে একচেটিয়া ইসরাইলের কর্তৃত্ব স্থাপন। মধ্যপ্রাচ্যে রাজা-বাদশাহরা নিজেদের সাম্রাজ্য রক্ষার জন্য ব্যস্ত। ট্রাম্পের সাম্প্রদায়িক অবস্থান গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের এই রাজা-বাদশাহদের তাদের দৃষ্টিতে পড়ে না। ইসরাইলের প্রতি অন্যায় সমর্থন দান প্রকৃতপক্ষে কাদের জন্য ক্ষতিকর, সেটা তারা বুঝতে রাজি নয়। মুসলিম দেশগুলোর নেতৃত্ব নিয়ে সৌদি আরব আমেরিকার সাথে গঠন করেছে মিত্র জোট।
কাতার মানুষের রাজনৈতিক চিন্তার স্বাধীনতা ও মর্যাদা দিতে চায়। জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়াকে তারা অপছন্দ করে না। মানুষের কথা বলার সুযোগ করে দিতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেসব রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনাকে টুঁটি চেপে ধরে রেখেছে; কাতার সেগুলোকে প্রকাশ করতে চায়। এ জন্য আলজাজিরার মতো একটি সংবাদমাধ্যমকে তার আনুকূল্য দিয়েছে। রাজতন্ত্রের জন্য কাতারের এমন মনোভাব শঙ্কা সৃষ্টি করে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ তাই কাতারকে চেপে ধরেছে। তারা চায় কাতারও রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো অবস্থান গ্রহণ করুক। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কথা বলার সুযোগ না পাক। কাতারকে চুপ করিয়ে দেয়া গেলে এ অঞ্চলে রাজতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে, এমন শক্তি আনুকূল্য পাবে না। মোট কথা, কাতারের উদার অবস্থান গ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাজতান্ত্রিক সরকার সহ্য করতে পারছে না।
সিরিয়ার পরিস্থিতি এভাবে অমীমাংসিত হয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে, শুরুতে খুব কম মানুষ ভেবেছে। এখন বোঝা যাচ্ছে এটি জ্বালানো এমন এক আগুন, যা কেবল বিস্তৃতি ঘটবে। কাতারের অবরোধ আরোপ করে মধ্যপ্রাচ্যের এ দাবানলকে যেন সৌদি সীমান্তে টেনে আনা হলো। এখন পর্যন্ত কাতারকে নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ইরান ও তুরস্ক সরাসরি কাতারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সৌদি আরব চাইলেই দেশটিকে নিজেদের পেটের ভেতর হজম করে নেবে, এমন সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।
আমেরিকান অবস্থানের বিপরীতে চীন-রাশিয়ার মেলবন্ধন দৃঢ় হচ্ছে বহুদিন ধরে। ট্রাম্পের সাম্প্রদায়িক উসকানির বিপরীতে এই জোটকে শক্তিশালী করছে মুসলিম দেশগুলো। ইরান ও তুরস্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এই জোটের সাথে। এই জোটে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তানও। বিশ্বপর্যায়ে আমেরিকার নেতৃত্বের খালি আসনটি রাশিয়ার সাথে পূরণ করছে চীন। এই মেরুকরণে অন্যতম বিশ্বশক্তি ভারতও তার অবস্থান স্পষ্ট করে প্রকাশ করল। বিজেপিশাসিত সরকার সে দেশে সাম্প্রদায়িক কার্যক্রম জোরদার করেছে। কয়েক বছর ধরে গরু রক্ষার নামে অনেক মানুষকে তারা হত্যা করছে। দেশটির ২০ কোটি মুসলিম এর বিপরীতে কোনো ধরনের জোরালো প্রতিবাদ দেখাতে পারেনি। ধর্মীয় এই বিশাল গোষ্ঠীটি সে দেশে তাদের প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। ঠিক এই সময়ে নির্যাতিত নিপীড়িত বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের স্বার্থের কথা ভুলে গিয়ে মুসলিম আরবরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরবদের একটি অংশ ট্রাম্প-ইসরাইল মিত্রকে পছন্দ করে নিয়েছে।
ভারতের সব পরিকল্পনা তাদের সীমান্তের দুই দিকে পাকিস্তান ও চীনকে সামনে রেখেই হয়। তাদের দরকার উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ইসরাইল তাদের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারে। নতুন বিশ্ব পরিস্থিতিতে মোদির ভারত তাই খোলামেলা হয়ে ইসরাইলকে নিজেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছে। ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারতীয় শাসকেরা নিজ দেশের ২০ কোটি মুসলিম এবং আরব বন্ধুদের কথা মাথায় রাখত। ইসরাইলকে সরাসরি স্বীকৃতি দিয়ে জনগণের বিরূপ হতে তাই কেউ চায়নি। কিন্তু মোদির কাছে এটা স্পষ্ট হয়েছে, ভারতীয় মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শনের অবস্থানে এখন আর নেই। অন্য দিকে আরব বন্ধুদের অনেকে অনেকটাই ইসরাইলের বলয়ে চলে গেছে। এই অবস্থায় ইসরাইলের সাথে প্রকাশ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা আর বাকি নেই। ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক ও রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি এখন আর কারো বিবেচনায় নেই।
এবারের মোদির ইসরাইল সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দুটো দেশের মধ্যে সম্পর্কের এমন ইউটার্ন খুব কমই দেখা যায়। দুই দেশের সরকারপ্রধানরা যেভাবে মাখামাখি করলেন; তা একটি দৃষ্টান্ত বটে। নিজ গৃহে নির্যাতিত বঞ্চিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সভ্য দেশ হিসেবে যে প্রতিশ্রুতি আপনা থেকে প্রতিপালিত হয়ে আসছে; সেটার ছিটেফোঁটা দেখা গেল না মোদির সফরে। কট্টর ট্রাম্পও ইসরাইল সফরে গিয়ে রামাল্লায় গিয়েছেন। ফিলিস্তিনি প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মোদি রামাল্লা সফর করেননি, তাদের শীর্ষ নেতাদের সাথে সাক্ষাতের বিষয় তো আরো দূরের বিষয়। বিশ্বব্যাপী আলোচিত ফিলিস্তিন শব্দটি তিনি একবারও উচ্চারণ করলেন না।
মুখে নাম না নিলেও বিশ্বের মেরুকরণে ধর্ম হয়ে উঠছে প্রধান ফ্যাক্টর। ট্রাম্পের উসকে দেয়া খ্রিষ্টবাদী চিন্তা-চেতনা ইউরোপ ও আমরিকায় মুসলিমবিরোধী সেন্টিমেন্ট চাঙ্গা করছে। ট্রাম্প আবার ইসরাইলের আগ্রাসনবাদী কর্মকাণ্ডে জোরালো সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর অনেকে ট্রাম্পের সাথে পরোক্ষে এর সমর্থক। এই গ্রুপে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জুটির সাথে মধ্যপ্রাচ্যের আরব শাসকদের নাম বেমানান। এখন মৌলবাদী শাসক নরেন্দ্র মোদি এই গ্রুপে অবস্থান করার পরও তাকে কেউ মুসলিমবিদ্বেষী বলার সুযোগ পাবে না। রাশিয়া-চীন আপনা থেকে মার্কিন ইসরাইল লবির লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোর আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে। ইউরোপীয় বিশ্বায়ন অব্যাহত রাখার ম্যাক্রো-মারকেল জুটির প্রচেষ্টা তাই গুরুত্ব পাবে বলে মনে হয় না।
[email protected]




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close