শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭


নারীকে কেন হতে হয় সিনেমার শাবানা?


সংবাদ সমগ্র - 12.07.2017

সাবিনা শারমিন : সম্প্রতি এক ফেসবুক বন্ধুর কিশোর সন্তান সুইসাইড করেছে। সুইসাইডের সঠিক কারণ জানা না গেলেও তাঁর পোষ্ট এর কমেন্টস পড়ে অনুমান করছি বিষয়টি একেবারেই পারিবারিক মান অভিমানের সৃষ্ট পরিণতি, যা মেনে নেয়া খুব কষ্টকর এবং মর্মপীড়াদায়ক। পোষ্ট থেকেই জানা যায় ভদ্রলোকের স্ত্রীর সাথে কিছুকাল আগে ডিভোর্স হয়ে গেছে। পরবর্তীতে প্রাক্তন স্ত্রী দ্বিতীয়বার পরিণয়ে আবদ্ধ হয়েছেন।


তবে অনেকে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীকে এখানে দায়ী করলেও, আমি মনে করি, না জেনে এমন কঠিন দায় কারো উপর দেয়া উচিৎ নয়। খুব স্বাভাবিকভাবেই স্বভাবগত ভাবে আমরা অন্যের পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পর্কের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্মম ভাবে মন্তব্য করে শোকার্ত পরিবারের শোক আরও বাড়িয়ে দেই।
হ্যাঁ, আমরা বুঝেই আমাদের আজন্ম লালিত পালিত সীমাবদ্ধতা ও মানসিকতা দিয়ে জাজমেন্টাল হয়ে এমন একটি রায় দিয়ে ফেলি যে, ‘যেহেতু সাবেক স্ত্রী ভদ্রমহিলা পুনরায় বিয়ে করেছেন, তাই তিনি একজন চরিত্রহীন ডাইনী।’
নারীর বিষয়ে আমরা আরো বলতে পছন্দ করি যে ‘মহিলা বিয়ে করে নিজ সন্তানকে খেয়ে ফেলেছেন। দ্বিতীয় বিয়ে না করে ভদ্রমহিলা যদি মাটি কামড়ে সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মুখ বুঁজে পড়ে থাকতেন, তাহলে ছেলেটি সুইসাইড করতো না। স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়েই এই সুইসাইডের একমাত্র কারণ।’
অন্যদিকে, পুরুষ হলে বলতে পছন্দ করবো ‘ভদ্রলোকের মনে হয় পরকীয়া ছিলো।’ ইত্যাদি ইত্যাদি তথাকথিত সাধারণীকরণ সিদ্ধান্ত দিয়েই আমরা বোঝাতে চেষ্টা করি যে কোন কারণেই সংসার টেকাতে হয়। একটিবারও ভাবিনা কারো ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের সিদ্ধান্তকে না জেনে কটাক্ষ করা যায় না। হোক সমস্যা স্বামী বা স্ত্রীর।
তাছাড়া একতরফা ভাবে স্বামী বা স্ত্রীকে সন্তানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে দাঁড় করিয়ে সে দায় ছুঁড়ে দেয়া অত্যন্ত নির্মমতা। জীবনের বাস্তবতায় হয়তো কারো কারো যাপিত জীবন একসাথে কাটানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই বলে কোন পিতা-মাতা চায় না সন্তানের জীবনের এমন করুণ পরিণতি। এমন দায় দেয়া ভীষণ অন্যায়।
ভেবে দেখতে হবে বাবা- মায়ের বিচ্ছেদ ছাড়া সুইসাইডের অন্য কোন কারণও থাকতে পারে। যা বের করার চেষ্টা করার আগেই আমরা দায়িত্বহীন মন্তব্য করে ফেলি। মানুষের চরিত্র হনন করে যাতনা ছুঁড়ে দেয়া অনেকের কাছে ভীষণ আনন্দের কারণ। আমাদের সমাজে এ ধরণের মন্তব্য করা মানুষের অভাব নেই। তাই একটিবার নিজেকে সে অবস্থানে সকলেরই ভাবা উচিৎ।
বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সন্তানের আত্মহনন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে সন্তানের কল্যাণে ডিভোর্স পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী কিছু করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া এ সময়ের জন্য অত্যন্ত জরুরী। তবে সন্তানের জীবন নাশের দায় শুধু একটি পরিবারকে দিলেই হবে না। ডিভোর্স বিষয়ে সামাজিক মনস্তত্ত্বের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
সেক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধিকালে শিশু মনের সার্বিক পরিস্থিতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুর জন্য নৈতিক এবং উদার মানসিকতা গঠনে বিশেষ শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম স্কুল পর্যায়ে সংযুক্ত করা যেতে পারে। স্কুল পর্যায়েও এসকল শিশুকে আলাদা ভাবে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়াও উদার মানবিকতার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিতামাতার অন্যত্র বিয়ের কারণে সন্তানের সুইসাইড, এমন ঘটনা উন্নত দেশে খুব একটি শোনা যায় না। কারণ, ডিভোর্স তাদের কাছে কাম্য না হলেও অস্বাভাবিক কিছু নয়। সেসব দেশে বাবা-মারা সন্তানের সঙ্গে আলোচনা করেই একটি সিদ্ধান্তে আসে। যদিও সকল শিশুর জন্যেই পিতামাতার বিচ্ছেদের বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে মেনে নেয়া কষ্টকর
হলেও এমন ঘটনা বিরল। কারণ, পরিবেশ থেকেই তারা মানিয়ে নেয়া শিখে যায়, যা আমাদের দেশে সম্পূর্ণই উলটো।
পিতামাতার বিচ্ছেদে সন্তানের উপর মানসিক চাপ এবং করণীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিসর থেকে কয়েকটি অভিজ্ঞতার বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই। যা হয়তো বা শিশুদের মানসিকতা পরিবর্তনে সমাজের করণীয় বিষয়ে কিছুটা হলেও কাজে আসতে পারে। চলুন একটু শেকড়ের কারণগুলো ঘেঁটে দেখি।
আমাদের নানীদাদীরা বিয়ের দিনেই কনেকে কানে কানে বলে দেন, ‘লাল শাড়ী পরে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকলি আর কাফনের সাদা কাপড় পরে বের হতে হবে।’ আমি মনে করি, তাতেতো কোন দোষ নেই। যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বোঝাপড়া থাকে। কিন্তু তাদের এ ধরনের পরামর্শ আমাদের কি শিক্ষা দেয়? শিক্ষা দেয় যে কোন পরিস্থিতিতেই নারীকেই সংসার টিকিয়ে রাখতে হবে।
পুরুষ যাই করুক না কেনো সংসার টেকানোর দায় একমাত্র নারীর। যার দরুন সন্তানরাও এ ধরণের ধারণা নিয়েই বড় হতে থাকে যে বাবা যাই করুক না কেনো মা তা মেনে নিলেই হতো। এ ক্ষেত্রে পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ে করলে যতোটা না দোষ, নারী করলে তা অনেক বেশী দোষের। তাই সন্তানরাও পরিণতিতে মাকেই দোষারোপ করে। কারণ তারা ছেলেবেলা থেকে শেখে ত্যাগের বিষয়টি মাকেই করতে হয়।
সবসময়ই শিশুরা মায়ের উপর আবেগপ্রবণ বেশী হয়। আর ভয়টি এখানেই বেশী। তাদেরকে শেখানো হয় না যে, অনেক কারণেই স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। এখানে একক ভাবে কেউ দায়ী নন বা একতরফা ভাবে কাউকে দায়ী করা যায় না। যদিও ব্যক্তি বিশেষে ঘটনা ভিন্ন হতে পারে।
আমাদের দেশে একটা সময় ছিল যখন সামাজিক সিনেমা মানেই শাবানা। আর শাবানা মানেই স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেশত! আর যে কোন পরিস্থিতিতে সকল দায় নিজের কাঁধে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির সকলকে খুশী করা। এমন কি নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে হলেও ।
আমাদের সমাজ এখনো চায় নারী যতো শিক্ষিতই হোক না কেনো সংসারে নারী যেনো হয় এক একজন সামাজিক সিনেমার শাবানা। স্বামী লোফার, লম্পট মদখোর হলেও স্ত্রী যেন হোন একজন সর্বংসহা শাবানা। যিনি বহুগামী স্বামীকে বশে এনে সংসার টিকিয়ে রাখাই জীবনের সার্থকতা মনে করেন।
বাস্তব জীবনে আমরা নিজেরাও চাই এক একজন শাবানা বনে গিয়ে পুণ্যবতী হওয়ার প্রমাণ দিতে। শাবানা না হয়ে উভয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে শ্রদ্ধাশীল হলে পরিবারের সকল সদস্যের দায়িত্ববোধ বাড়বে। সবার ভেতরে এই বোধ জাগ্রত করতে হবে, সংসার দুজনের। এখানে নারী কেন হবে সিনেমার শাবানা?
আমাদের ‘ঘরের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানো’ সমাজ ব্যবস্থা ডিভোর্স হ’লে তার দায় বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই নারীর উপর দিতে পছন্দ করে। যার কারণে ডিভোর্স হ’লে সন্তানরাও এক সময়ে মায়ের উপর বিরূপ অভিমান মনের গহীনে পুষতে থাকে। বয়ঃসন্ধিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে তাই অনেক ধরণের দুর্ঘটনাই ঘটে যেতে পারে।
এই শাবানাদের সন্তানরা ভাবে মা কেনো বাবার অত্যাচার মেনে নিলো না। বাবা যাই করুক না কেনো তার মা সব মেনে নিলেই সব ঠিক হয়ে যেতো। তারা শিখলো না যে দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা বুঝেই নিয়েছেন। এতে সকলেরই মঙ্গল।
আমাদের সমাজের দেয়া এই কাঠামোর বাক্স থেকে বের হয়ে পরিবর্তিত চিন্তাধারা দিয়ে নতুন করে সমাধানের পথকে আমরা কখনোই স্বাগত জানানোর উদারতা দেখাতে পারিনি। সন্তানের মানসিকতা পরিবর্তন করার জন্য কখনোই আমরা তাদের উদার মানসিকতার শিক্ষা দেই না। আমরা শেখাইনা দু’টি মানুষ দুই পরিবেশ থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যক্তিত্ব নিয়ে গড়ে উঠেছেন। পারস্পরিক বোঝাপড়া না হলে ডিভোর্স খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়।
স্বামী- স্ত্রীর অনাস্থার সম্পর্কের পরিণতিতে পরিবারের যে কোন সদস্যের জীবননাশের দুর্ঘটনা, এটি নতুন কিছু নয়। বিচ্ছেদ, পরকীয়া, এসবও নতুন কোন ঘটনা নয়। তবে ইদানিং এ কারণে সন্তান হত্যা, এসব ঘটনা আমাদের হতবিহ্বল ও বাকরুদ্ধ করে ফেলে।
আমরা এসব ঘটনায় নিদারুন কষ্ট পেলেও এসব ঘটনা আমাদের সন্তানদের যেন স্পর্শ না করে, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্তে আগ্রহী হই না। বুঝতে চাই না এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সন্তানদের জন্য প্রয়োজন উদার দৃষ্টিভঙ্গির শিক্ষা। বাবা-মায়ের নিজস্ব সিদ্ধান্তের দায় তাই কখনোই সন্তানের ওপর বর্তাতে পারে না।
বাবা- মায়ের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মেনে নেয়ার জন্যে উভয়ের দিক থেকেই বোঝাতে হবে যে সকলের মঙ্গলের জন্যেই এ সিদ্ধান্ত জরুরী ছিলো। আমার মনে হয়, বিবাহে যেভাবে সামাজিক ভাবে একটি গ্রহণ যোগ্যতার বিষয় থাকে, ডিভোর্সের ক্ষেত্রেও এরূপ গ্রহণ যোগ্যতার প্রয়োজন রয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। এ ধরনের শিক্ষা দিয়ে সন্তান বড় করে তুললে সন্তানরা স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদকে খুব সহজ ভাবে মেনে নিতে শিখতে পারবে।
পিতামাতার বিচ্ছেদের বিষয়টি সহজভাবে মানিয়ে নেয়ার শিক্ষাটি খুব বেশী প্রয়োজন। পশুপাখিদের প্রতি মায়া মমতার শিক্ষাও জীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়ায়।
প্রসঙ্গক্রমে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা বলি। লেখাপড়ার জন্য সে সময় দু’বছর ইংল্যান্ড ছিলাম। আমাদের বাড়ির ল্যান্ডলর্ড ভদ্রমহিলা একটি বৃদ্ধ নিবাসের সুপারভাইজর ছিলেন। ভদ্রমহিলা তার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে স্কটল্যান্ড যাবার সময় বিষয়টি আমাকে জানালেন।
কৌতূহলবশত উনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি আনন্দ ভ্রমণে যাচ্ছেন কিনা। উত্তরে তিনি জানিয়েছিলেন যে তার সাবেক স্বামী হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তিনি তাকে সেবা করার জন্য যাচ্ছেন। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক মধুর হওয়াতে জানতে চেয়েছিলাম যে তার বর্তমান স্বামী এতে কিছু মনে করবেন কিনা।
উত্তরে তিনি বললেন ‘জীবনের প্রয়োজনে দু’জনের শ্রদ্ধা অটুট রেখে তার সাথে আমার ডিভোর্স হয়েছে, এখন তিনি মারা যাচ্ছেন, মানবিক দায়িত্বটাতো থেকেই যায়, তাতো কখনো ডিভোর্স করা যায় না, আর সে আমার সন্তানের পিতা।’ ভদ্রমহিলার কথা শুনে মনে হয়েছিলো এই ধরণের উদার মানবিক মানসিকতা আমাদের দেশের হতে কতো সময় লাগবে?
আমাদের দেশে ডিভোর্সের পর প্রাক্তন স্বামী-স্ত্রী শত্রুতে রূপান্তরিত হয়, যার কারণে ভেঙ্গে যাওয়া পরিবারের সন্তানদের মানস গঠন অন্যান্যদের চাইতে কিছুটা অপরিপক্ক এবং বিপর্যস্ত হয়। উন্নত দেশে ডিভোর্স কাম্য না হলেও জীবনের প্রয়োজনে এটি খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়।
বিচ্ছেদের আগে সন্তানদের এসব বিষয় বোঝানো খুব বেশী প্রয়োজন। তাদেরকে বোঝাতে হবে স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ায় খুব বেশি আস্থা না থাকলে তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা অটুট রেখে যার যার পথ বেছে নেওয়াই উত্তম।
তাই সময় হয়েছে পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তায় বিষ বাষ্পময় দাম্পত্য জীবন প্রলম্বিত করা সকলের জীবনের জন্য হুমকী। তাই সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ব্যর্থ হলে শিশুদের তা সহজে মেনে নেয়ার জন্য প্রয়োজন সপরিবারে ডিভোর্স পূর্ববর্তী কাউন্সেলিং।
তাই বিবাহ বন্ধনে যেমন আত্মীয় স্বজনদের নিমন্ত্রণ করে আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাজ একটি পরিবারকে স্বীকৃতি দেয়া হয়, তেমনি বিচ্ছেদের ক্ষেত্রেও একই রকম গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি দেয়া অত্যন্ত জরুরী। পিতামাতার জীবনের জন্যে জরুরী না হলেও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরী।
এতে শিশুদের সামাজিক ভাবে হেয় হতে হয় না আর সহজ ভাবে মেনে নিতেও তাদের মনকষ্টের কারণ থাকে না। শিশু মনে এতে সাময়িক কষ্ট হলেও বাস্তবতা মেনে নিতে শেখার মধ্য দিয়ে এই শিশুরা প্রতিকূলতা মোকাবেলায় বিশেষ পারদর্শী হয়ে ওঠে।
সাবিনা শারমিন : আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের প্রশিক্ষক, কলাম লেখক।
[email protected]




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close