বুধবার ২৩ অগাস্ট ২০১৭


জনসংখ্যার একাল সেকাল


সংবাদ সমগ্র - 10.07.2017

প্রফেসর মো: আবু নসর : ছোট্ট দেশ বাংলাদেশের জনসংখ্যার চাপ অত্যধিক। বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম জনবহুল দেশ। ২০৫০ সালে বাংলাদেশ এসে ষষ্ঠ স্থানে দাঁড়াবে। এ দেশে প্রতি মিনিটে চার জন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার ৪৭৯ জন এবং প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাড়ছে। ২০৫০ সালে জনসংখ্যা হবে ২৩০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ২৩ কোটি। বিশ্বে প্রতি মিনিটে ১৫৮ জন, প্রতিদিন দুই লাখ ২৭ হাজার ২৫২ জন এবং প্রতি বছর আট কোটি ২৯ লাখ ৪৭ হাজার মানুষ বাড়ছে। বিশ্বে জনসংখ্যা বর্তমানে অধিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ এই বাংলাদেশ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯৯৩ জন লোকের বসবাস। আলজাজিরা সূত্রমতে, জুলাই মাসে বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৭২০ কোটি। ৫০ বছর আগেও এটা ছিল ৩০০ কোটি। ১২ বছর আগে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ৬০০ কোটি। ২০২১ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে এক হাজার ৯০ কোটিতে। এ জন্য উন্নয়নশীল দেশের উচ্চ জন্মহারকেই দায়ী করছে জাতিসঙ্ঘ। বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আগামী শতাব্দীর গোড়ার দিকে পৃথিবী হবে এক হাজার ৬৬০ কোটি মানুষের আবাসস্থল। গত এক শতকে (১৯০০-২০০০) বিশ্বে জনসংখ্যা ১৬০ কোটি থেকে ৬১০ কোটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। টঘউচ এর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ব জনসংখ্যা ৮০০ কোটি, ২০৪৩ সালে ৯০০ কোটি এবং ২০৮৩ সালে এক হাজার কোটিতে পৌঁছাবে। জাতিসঙ্ঘের ধারণা মতে, সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর জনসংখ্যা অস্বাভাবিক হয়ে বেড়ে যাবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা হবে বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ। বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীরগতির, কিন্তু কিছু উন্নয়নশীল দেশ বিশেষ করে আফ্রিকায় দ্রুত গতিতে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। উল্লেখ্য, ১৮০৪ সালে বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ১০০ কোটি। এর ১২৫ বছর পর অর্থাৎ ১৯২৯ সালে জনসংখ্যা দাঁড়ায় ২০০ কোটি। গত দুই শতকে বিশ্বের জনসংখ্যা সাতগুণ বেড়ে গেছে। ১৯৬০ সালে বিশ্বে যে জনসংখ্যা ছিল এখন তার দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১১ সালের অক্টোবরে বিশ্বের জনসংখ্যা ৭০০ (সাতশ) কোটিতে পৌঁছানোর এক প্রতীকী দিন ঘোষিত হয়। পৃথিবীর সাত শ’ কোটিতম শিশু বাংলাদেশের ঢাকার ঐশী। টঘঋচঅ প্রতিনিধি আর্থার এরকেন বলেন, ৭০০ কোটিতম শিশুকে পৃথিবীতে স্বাগত। এ শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে সঠিক পরিবেশে বড় করে তোলার দায়িত্ব সবার। তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যা সমস্যা হবে না যদি তা জনশক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এখনো অনেকে জীবিত আছে যারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যা দেখেছেন ২০০ কোটিরও কম। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ বেড়েছে। আর্থার এরকেন বলেন, প্রতিদিন একটি করে ভালো কাজ করলে ৭০০ কোটি ভালো কাজ হবে, যা পৃথিবী পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট। সত্তর হাজার বছর আগে যখন সর্বশেষ বরফযুগ শুরু হয়, তখন বিশ্বের জনসংখ্যা ছিল ১৫ হাজার। বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর বয়স ৪৬০ কোটি বছর। এখন যাকে ব্রিটেন বলা হয়, সেখানে তখন মানুষ বাস করত না। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনার মধ্যে জনসংখ্যা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশের সঠিক জনসংখ্যা জানা না থাকলে পরিকল্পনা সঠিকভাবে করা যায় না। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার। ২০০২ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি। তবে ২০০৭ সালের সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুকে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি। আর জাতিসঙ্ঘ একই সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ। ২০০৬ সালে টঘঋচঅ পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ। স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে এ দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত জনসংখ্যা দেশের জন্য সমস্যা বয়ে আনে। তবে বাড়তি জনসংখ্যাকে যথাযথভাবে ব্যবহারপূর্বক জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে তা দেশের জন্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জন্ম-মৃত্যু হারের ব্যবধানের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্নত চিকিৎসার কারণে মৃত্যুহার কমে যাওয়ায় এবং উচ্চ জন্মহার অব্যাহত থাকায় জনসংখ্যা বাড়ছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সহজলভ্যতার কারণে জন্মহার কিছুটা কমে এসেছে। ২০৫০ সালে বিশ্বের নতুন জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশই হবে উন্নয়নশীল দেশের; বর্তমানে যা ৩৮ শতাংশ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব এতই যে, সারা পৃথিবীর মানুষ যদি যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয় তাহলেও সেখানে জনঘনত্ব এত হবে না। তবে দেখা যায়, সচেতন ও বিত্তবান মানুষদের এক থেকে দু’টি সন্তান, অন্য দিকে গ্রামে-গঞ্জে ও শহরে বসবাসকারী অসচেতন বিত্তহীন মানুষদের কমপক্ষে আট-দশটি করে সন্তান। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বর্তমানে ১.৩৯ শতাংশ জনসংখ্যা নিয়ে যে পরিসংখ্যান দেয়া হচ্ছে, তাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিমূলক। অর্থনেতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে হলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রত্যাশিত সীমায় হ্রাস করতে হবে। জনসংখ্যার বৃদ্ধি যাতে জনবিস্ফোরণে রূপান্তরিত না হয়, তার জন্য পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্থক কর্মসূচি প্রয়োজন।
লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, কলারোয়া সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close