শুক্রবার ২০ অক্টোবর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » আরও খবর » পুলিশ আসছে শুনে পালাতে গিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু


পুলিশ আসছে শুনে পালাতে গিয়ে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু


সংবাদ সমগ্র - 02.07.2017

পুলিশ আসার গুজবে পালাতে গিয়ে যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আবদুল মতলেব বিশ্বাস (৭১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার রাতে সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ ২৭ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এজন্য এলাকায় ‘মতলেব চেয়ারম্যান’ হিসেবে বেশি পরিচিত ছিল। এছাড়াও তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। রোববার বাদ জোহর ইছালী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতলেব বিশ্বাসকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

আবদুল মতলেব বিশ্বাসের স্বজনদের অভিযোগ, শনিবার রাতে সদর উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে মতলেব বিশ্বাসের জামাই (মেয়ের স্বামী) আশরাফ আলীকে ধরতে পুলিশ যায়। সেখানে তাকে না পেয়ে ফিরে আসে পুলিশ। এসময় মেয়ে জেসমিন নাহার বর্ষা ফোনে বাবাকে সতর্ক করেন। পুলিশে ধরার ভয়ে মতলেব বিশ্বাস বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। ৪’শ-৫’শ মিটার যাওয়ার পর মতলেব বিশ্বাস পড়ে যান। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। পরে লোকজন তার মৃতদেহ বাড়িতে আনেন।

আবদুল মতলেব বিশ্বাসের মেয়ে নাজমুন নাহার পলি সাংবাদিকের জানান, তার বাবা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাকে নানাভাবে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছিল। আওয়ামী লীগের নেতা বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন পুলিশি হয়রানি থেকে রেহাই দেওয়ার নামে বিভিন্ন সময়ে তার বাবার কাছ থেকে ৭-৮ লাখ টাকা আদায় করেছেন। তারপরও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছিল। এজন্য পুলিশ আসার খবর শুনে তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পালাতে গিয়ে হৃদরোগে অসুস্থ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন তার বাবা।

তিনি জানান, তার বাবাকে ২০১৩ সালে সন্ত্রাসীরা দুই পায়ে গুলি করে আহত করে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি এক পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেনের ইন্ধনে আবদুল মতলেব বিশ্বাসকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পায়তারা চলছিল। মতলেব বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন বিষয়টি ম্যানেজের চেষ্টা করছিল। এক পর্যায়ে হয়তো ম্যানেজ করতে পারেনি। শনিবার রাতে পালাতে গিয়ে পড়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইছালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন বলেন, আবদুল মতলেব বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে পুলিশকে ব্যবহার করে নানা ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। গত ইউপি নির্বাচনেও আমার প্রতিদন্দ্বী হিসেবে মতলেব বিশ্বাস পুলিশকে টাকা দিয়ে ভোট কাটতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। গত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে আসছিলেন। আমি কখনো তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র কিংবা টাকা আদায় করিনি। পরিবারের সব অভিযোগ ভুয়া।

জানতে চাইলে কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম আজমল হুদা বলেন, শনিবার রাতে পাঁচবাড়িয়া এলাকায় কোনো পুলিশ সদস্যকে পাঠানো হয়নি। সেখানে আবদুল মতলেব বিশ্বাসকে আটক করতে যাওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close