বুধবার ২৩ অগাস্ট ২০১৭


ঈদের সকালে বাবার দেয়া তাজা লাল গোলাপ রহস্যই থাকলো!


সংবাদ সমগ্র - 26.06.2017

রুমিন ফারহান: আচ্ছা ঈদের আবার একাল সেকাল কি? ঈদ মানেই তো আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের সাথে মিশে থাকে পোলাও, কোরমা, জর্দা, পায়েসের মিষ্টি সুবাস, নতুন কাপড়ের গন্ধ, রাতভর আড্ডা, গল্প আর মেহেদীর রঙ। আমাদের ছোটবেলায় ঈদের বার্তা চলে আসতো শবেবরাতের রাত থেকেই, অন্তত আমার ক্ষেত্রে তাই। স্পষ্ট মনে পড়ে শবেবরাতের সন্ধ্যাগুলো। বড়রা সব ব্যস্ত নানান রঙের হালুয়া রুটি বানাতে আর তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে। আর আমরা ছোটরা ঘুরছি মুঠো ভর্তি তারাবাতি হাতে। যদিও কোন কোন দুষ্টু ছেলে যে কদাচিৎ পটকা ফুটিয়ে সকলের পিলে চমকে দিতনা তেমনটি হলফ করে বলা যায়না, তবু সবকিছু ছাপিয়ে শিশুতোষ আমোদটাই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠতো।

তখন তো আর আজকের মত ফ্ল্যাটবন্দী জীবন ছিলনা আমাদের। বাড়ির ওয়াল পেরোলেই বড় খেলার মাঠ যেখানে বিকেল হলেই খেলতে যেতাম আমরা। একতলা একটা বাগান ঘেরা বাড়ি, যার সামনে পেছনে মালির যত্নে ফোটানো নানা রঙের ফুলের গাছ। বিকেলে খেলার মাঠে আর সন্ধ্যের মুখে বাড়ির বাগানে বসতো তারাবাতির মেলা। মনে পড়ে রকেট বাতি নামে কি যেন একটা বের হয়েছিল সেসময়। সেটা একটা জোগাড করতে পারা মানে অনেকটা আকাশের চাঁদ হাতে পাবার মতো। ভাই বোন ছিলনা আমার তবে প্রতিবেশি সমবয়সী বন্ধুরা তার অভাব বুঝতে দেয়নি কোনদিন। আমার শবেবরাতের সন্ধ্যা তাই ঈদের দিনের চেয়ে কোন অংশেই কম আনন্দের ছিলনা। আর শবেবরাত মানেই তো রোজা চলে আসছে, যে রোজার পুরো একটা মাস ইস্কুল ছুটি।

রোজার প্রতিটি দিন ছিল নানান রঙের খুশিতে মোড়ান। মা বড় কড়া। তাই সকল চাওয়া, সকল আবদার, সকল ইচ্ছাপ্রকাশ বাবার কাছে। বাবা পারেনা আকাশের চাঁদ পেড়ে আনে। আজ এই চাই তো কাল সেই। তবে সবই একটু চুপিচুপি, মাকে লুকিয়ে। মাকে সংসার চালাতে হয়, আহ্লাদে গা ভাসালে তার চলেনা। আমার জন্য অবশ্য রোজার প্রতিটি দিনই ছিল নতুন রোমাঞ্চে ভরা। খালা, মামা, চাচা প্রতিদিনই কেউ না কেউ আসছে, হাতে ঈদ উপহার।

ঈদের সকাল শুরু হতো বাবার দেয়া একগুচ্ছ তাজা বড় লাল গোলাপ দিয়ে। আজকের মত তখন নানা মাপের প্রায় সকল রঙের আমদানী করা চাষের গোলাপে বাজার ভরে ওঠেনি। তাই সবার ঘুম ভাঙার আগে সেই কাক ভোরে অত বড় বড় লাল গোলাপ বাবা কোথা থেকে আনতেন সে এক রহস্যই রয়ে গেল। এরপর নতুন জামা পরে সাজতে না সাজতেই পাড়ার বন্ধুরা সব হাজির। বন্ধুদের বাসা একটু বুড়ি ছুঁয়ে তাড়াতাড়ি ফিরতে হতো। কারণ রেওয়াজ অনুযায়ী দুপুরের খাওয়া সবাই মিলে নানা বাড়ি আর রাতের বেলা দাদা বাড়ি। ধানমন্ডি থেকে লালমাটিয়া, আনন্দ আর আনন্দ।

আজও ঈদ আসে। কিন্তু কই সেই আনন্দমাখা ঈদ ঈদ গন্ধটা তো আর পাইনা। মজার রান্না, নতুন কাপড়, প্রিয়জনকে দেখতে যাওয়া সবই চলছে টেনেটুনে তবে ব্যস্ততা, দায়িত্ব, ক্লান্তি, সামাজিকতা সব মিলিয়ে কেবল ম্লান হয়ে এসেছে ঈদের আনন্দটা। একসময় ‘ঈদ’ শব্দটাই ছিল খুশি আর আনন্দে ভরা। এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে আরও অনেক কিছু। কিংবা হয়তো সবই আছে আগের মত, শুধু দেখার চোখটাই হারিয়ে ফেলেছি আমি। জীবনে একটা ইচ্ছা পূরণের সুযোগ যদি দেয়া হত আমাকে আমি চাইতাম ছোট্টবেলার একটা দিনে অন্তত একবারের জন্য হলেও যেন আবার ফিরে যেতে পারি আমি। আর সেই দিনটি ঈদ ছাড়া আর কোন দিনই বা হতে পারে?

লেখক: বার এট ল




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close