বৃহস্পতিবার ২৪ অগাস্ট ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » Box 2 » আল জাজিরার তুমুল জনপ্রিয়তার আসল কারণ


আল জাজিরার তুমুল জনপ্রিয়তার আসল কারণ


সংবাদ সমগ্র - 09.06.2017

হঠাৎ করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের ধনী দেশ কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে প্রতিবেশী তিন দেশ সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও বাহরাইন। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে মিশর, ইয়েমেন ও জর্ডান।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে এই দেশগুলোর অভিযোগ, কাতার তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদে’ মদদ দিচ্ছে। ‘সন্ত্রাসবাদ’ বলতে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যেই ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন হামাস এবং মিসরের ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদারহুডকে সমর্থন দেয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
গত সোমবার কাতারের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর আরব আমিরাতের এক মন্ত্রী বলেছেন, দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে অবশ্য কাতারের রাজপরিবারের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল আল জাজিরার বন্ধ করতে হবে!
মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সৌদি ও আমিরাতের শাসক পরিবারের সদস্য ও সরকারের মন্ত্রীরা সরাসরি আল জাজিরার বিরুদ্ধে কথা বলছেন। চ্যানেলটি বন্ধের দাবি তুলছেন। তাদের মতে, আল জাজিরা বন্ধ করে ফেললে তবেই তারা কাতারের সাথে সম্পর্ক পূণস্থাপন করতে রাজি হবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হল, আল জাজিরার প্রতি এত ক্ষুব্ধ কেন সৌদি ও আমিরাতের শাসকরা? এর উত্তর দিয়েছেন মরক্কোর এক গণমাধ্যম বিশ্লেষক তারেক শেরকাওয়ী। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি এই অধ্যাপক বলেন, ১৯৯৬ সালে আল জাজিরার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে সৌদি আরব। তার সাথে ছিল আরব আমিরাতের শাসকরা।
তারেকের মতে, সৌদি রাজপরিবার মনে করে তাদের দেয়া তথ্যের বাইরে অন্য কিছু সাধারণ মানুষ জানলে আখেরে তা তাদের শাসনের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। এ জন্য সরকারের অনুমোদিত কোনো সংবাদমাধ্যমের বাইরে কোনো স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যে গড়ে উঠুক তা তারা চায় না। আর আল জাজিরা সে কাজটিই তার জন্মলগ্ন থেকেই করে যাচ্ছে।
আফগানিস্তান ও ইরাকে আমেরিকার হামলা (যাতে সৌদি আরবেরও সমর্থন ছিল) ও আরব বসন্তে আল জাজিরার ভূমিকা ছিল অনন্য। এছাড়া ইসরাইল-হামাস যুদ্ধে পশ্চিমা একপেশে সংবাদের বাইরে আরব ও মুসলিম বিশ্ব ভিন্ন সত্যের মুখোমুখি হয়েছিল আল জাজিরার হাত ধরে।
মূলত আরব বসন্তে আল জাজিরার কভারেজ সৌদি শাসকদের ভয়ের অন্যতম কারণ। অনেকে মনে করেন, আল জাজিরার রিয়াল টাইম রিপোর্টিংই আরব বসন্তের পালে হাওয়া লাগিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। ওই সময় সৌদিসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশে চ্যানেলটির শাখা ও ব্যুরো অফিস বন্ধ করে দেয় সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো। এবং একই সাথে কাতারের প্রতি ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
তারেক বলছেন, কাতারের প্রতি সৌদির ক্ষোভ বেশ পুরোনো। ১৯৮০ সালের দিকে কাতার সৌদির একটি ভ্যাসেল স্ট্যাট ছিল। সৌদি আরবেই কাতারের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হত। সৌদি শাসকরা যেমন চাইতেন তেমন চলতো দোহা। কিন্তু বর্তমান কাতারি আমি তামিমের বাবা শেখ হামাদ প্রথম সৌদির এই নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করেন। হামাদ মনে করতেন, সৌদি শাসকরা দেশ শাসনের পুরোনো ধ্যানধারণা আকড়ে থাকতে চান, যা বর্তমান যুগের সাথে খাপ খায় না। এছাড়া শিক্ষা এবং প্রযুক্তিও সামনে এগুনোর কোনো তাগিদ নেই আহলে সৌদের মধ্যে। ফলে তিনি নিজের মতো করে নিজের দেশ গড়তে উদ্যোগী হন। তখন থেকেই বিরোধের শুরু। এরপর নিজের মতো করে চলার অংশ হিসেবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখিয়েছে একটি স্বাধীন টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করেন হামাদ। আরব বিশ্বে রাষ্ট্রীয় খবরের বাইরে প্রথম স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বাদ পেয়ে যান নাগরিকেরা। দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে আল জাজিরা। এই জনপ্রিয়তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতাই কাল হয়ে ওঠতে থাকে মুসলিম ও আরব বিশ্বের প্রতীক হয়ে ওঠা সংবাদমাধ্যমটির।
সূত্র: টিআরটি।




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close