শুক্রবার ২৩ জুন ২০১৭


মাশরাফি ‘পেশাদার চালাক’


সংবাদ সমগ্র - 07.06.2017

৯০ মিনিট শেষ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ কেউ লুটিয়ে পড়লেন। বেশ বোঝা যায় অভিনয়। পিছিয়ে থাকা দল তখন রেগে আগুন। সময় যে চলে যায়! ফুটবলের নিত্যদিনের চিত্র এটি। যাকে বলা হয় পেশাদারিত্বের সঙ্গে সময় চুরি, চালাকি। ক্রিকেটেও যে এমন হতে পারে সেটা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ না দেখলে বোঝা যেত না। কথাটা মনে হয় পুরোপুরি ঠিক হলো না। বলা উচিত মাশরাফির অধিনায়কত্ব না দেখলে বোঝা যেত না।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে মাশরাফি কী করতে চাচ্ছিলেন সেটা সংবাদ সম্মেলনের আগ পর্যন্ত অনেকেই বুঝতে পারেননি। আমি অবশ্য তার আগেই বুঝেছিলাম। স্বীকার করতে লজ্জা নেই, নিজের মেধায় বুঝতে পারিনি। বুঝেছিলাম অন্য একটা প্রেক্ষাপট থেকে।

দ্বিতীয় দফায় ওই ম্যাচে যখন বৃষ্টি নামে, তখন বেশ বুঝতে পারছিলাম অস্ট্রেলিয়া জিতে যাবে। স্মিথ, ওয়ার্নারের শরীরী ভাষা আর বাংলাদেশি পেসারদের অসহায়ত্ব দেখে এ কথা আঁচ করা খুব কঠিন কিছু ছিল না। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কাজ করি বলে, আমাদের ম্যাচ-রিপোর্ট লেখা শুরু করতে হয় খেলা শেষ হওয়ার বেশ আগে থেকে। যাতে করে শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করা যায়। প্রতিটি ম্যাচে কিছু মৌলিক দিক থাকে, থাকে উহ্য কিছু বার্তা। দ্রুততম সময়ের ভেতরে সেসব বুঝেশুনে তুলে আনতে হয়। লেখার মাঝে হঠাৎ খেয়াল করলাম মাশরাফি স্পিনারদের দিয়ে মাত্র এক ওভার বল করিয়েছেন। সেটা মিরাজকে দিয়ে। কেন তিনি এমনটা করলেন, তখন এটা ভাবতে শুরু করি। মিরাজ নতুন বলে ভালো করেন, শুরুতে তাকে ব্যবহার করা যায়। বাংলাদেশেরও নিশ্চয়ই সেই পরিকল্পনা ছিল।
কেন স্পিনাররা বল করেননি, এ কথা ভাবতে যেয়ে ‘মাশরাফির চালাকি’র বিষয়টি ভুলেও মাথায় আসেনি। এর মূল কারণ ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকা। হঠাৎ চোখ পড়লো হার্শা ভোগলের একটি টুইটে। সেখানে তিনি বলেন, আর চার ওভার খেলা হলে বাংলাদেশের বিপদ! এই টুইট দেখার পর ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতি নিয়ে ঘাটতে বসি। তাতেই বুঝে যাই কেন স্পিনাররা হাত ঘোরাননি।

সেদিন ম্যাচ-রিপোর্টে লিখেছিলাম, ‘নতুন বলে মিরাজকে দিয়ে একবারও চেষ্টা করলেন না মাশরাফি। শেষদিকে ধীরে বল করার কৌশল হিসেবে স্পিনার ব্যবহার করেননি। ওই পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু আগে ব্যবহার করতে পারতেন।’

এই লেখার কিছুক্ষণ পরে মাশরাফির সংবাদ সম্মেলন শুনে ধারণা পরিষ্কার হয়। সঙ্গে একটা বোধোদয়ও। নিজেই বুঝতে পারি শেষের এই লাইনটা লেখা ঠিক হয়নি- কিন্তু আগে ব্যবহার করতে পারতেন।

দ্রুততম সময়ের ভেতর ম্যাচ-রিপোর্ট শেষ করার তাড়া থেকে বিষয়টি নিয়ে অত চিন্তা করার সময় ছিল না। কেননা তখনো মাশরাফির কৌশল সম্পর্কে খুব একটা নিশ্চিত ছিলাম না।
মাশরাফি যখন এভাবে খেলছেন, তখন ওয়ার্নার-স্মিথ কিছুটা বিরক্ত ছিলেন। মাঠের বাইরে থেকেও বারবার বার্তা আসতে থাকে। কিন্তু তারা ছিলেন নিরুপায়। হাঁসফাঁস করেও কিছু করতে পারেননি। কেননা নিয়মের বাইরে যেয়ে মাশরাফি সময় চুরি করেননি।

মাঠের লড়াই এভাবেই কখনো কখনো মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বুদ্ধির যুদ্ধ হয়। সেখানে পেশাদারিত্বের খেলা হয়। দিন শেষে জিতে যায় মাশরাফির মতো কেউ কেউ!




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close