বৃহস্পতিবার ২৪ অগাস্ট ২০১৭


কাদের জন্য এই কর?


সংবাদ সমগ্র - 05.06.2017

নাসরীন রুমু: সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে “রমযান”।রমযান আসতেই যেনো আমাদের চিরাচরিত পরিবেশটা পুরোটাই বদলে গেছে । যেনো একটা শৃঙ্খলের মধ্যে
সবাই আবদ্ধ। ধনী , গরিব, মধ্যবিত্ত সবাই যে যেখানে থাকুক না কেনো একি সময়ে ইফতার, সেহেরি করছে, হয়তো জেলা ভিত্তিক সময়ের ব্যবধান এদিক সেদিক। তাও বেশি হলে ব্যবধান পাঁচ মিনিট ।মনে হয় ,সবাই একি সুতায় বাঁধা । সারাবছর মসজিদের সাথে যোগাযোগ নাই এমন মানুষও সুন্দর ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করছে। তারবীহ্ আদায় করছে । আত্মশুদ্ধির মাস এই মাহে রমযান। ইবাদতে নেই কোনো কার্পণ্যতা। অফিস ,আদালতে কাজের চাপও কম থাকে, থাকে স্কুল কলেজ বন্ধ। চারপাশের পরিবেশটা থাকে জমজমাট। দুপুরের পর থেকে ঘরে বাইরে সব জায়গায় চলে ইফতার বানানোর আয়োজন। হরেক রকম ইফতার।বাহারি ইফতারিতে সাজানো থাকে হোটেলগুলো।


ধনী, গরিব , মধ্যবিত্ত ভিত্তিক আবার হোটেল গুলোর রকম ফের আছে।কিন্তু এ হরেক রকম ইফতারির মেন্যু পরিবর্তন করে একদিন “মোরায়” আক্রান্ত সহায় সম্বলহীন মানুষ গুলোর সেহেরি- ইফতারির স্বাদ গ্রহন করি। পারবেন? মোটেও না।
শুকনো মুডি আর পানি দিয়ে ইফতার কিংবা ডাল আর চাল মিশানো স্বাদহীন খিচুরী দিয়ে সাহরী। মুখে তো রচবেনা, গলা দিয়েও ঢুকবেনা। কিন্তু তারা তো পারছে।
কি করবে? অভাব। যার আছে সে কখনো বুঝবেনা অভাব আক্রান্ত মানুষ গুলোর হাহাকার।কতটা অসহায়,কতটা কঠিন নির্মম বাস্তবতা ওরা পার করছে।
ঘরের চাল বলতে কারো আছে খোলা আকাশ, বিছানা বলতে কোনো ফুটপাত , রেল ষ্টেশন কিংবা কোনো পরিত্যক্ত, ঝুঁকিপূর্ণ ঘর।

সাগর পারের মানুষগুলোর কথা কি বলব, ওরা তো যাযাবর। প্রকৃতির মর্জির উপর ওদের বাস। কখনো সমুদ্রের অসীম ভালবাসা বা কখনো সমুদ্রের রষানোলে পডে সর্বশান্ত হয়। তারপরও চলমান তাদের জীবন। থেমে থাকেনা তাদের জীবন যুদ্ধ।

তবে যায় হোক , চাল চূলাহীন মানুষ গুলোর উপর এবারের বাজেটের ব্যাংকের করের বোঝা সইতে হলো না। যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় , সেখানে লাখ টাকাতো দুরের কথা। তবে ,এই বাজেটের চাবুকের কষাঘাত পড়েছে মধ্যবিত্তের উপর। যাদের নুন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা জিনিস ক্রয় করতে হয় । গ্যাস লাইনে গ্যাস থাকুক আর না থাকুক , বিদ্যুৎ লাইনে বিদ্যুৎ থাকুক আর না থাকুক কিংবা পানির লাইনে পানি থাকুক আর না থাকুক বিল তো শোধ করতে হবে , সাথে আবার ভ্যাট। বাইরে খান আর ঘরে খান, চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে , শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানে যান কিংবা প্রাণ খুলে মোবাইলে কথা বলেন সেখানেও ভ্যাট বাবাজি সানন্দে উপস্তিত থাকবে। অন্য কিছুতে অবহেলা থাকুক,অনিয়ম থাকুক কিংবা অবজ্ঞা থাকুক ভ্যাটের বেলায় শতভাগ মনোযোগী থাকে ভ্যাট উত্তোলনকারীরা। এটাতে আর ছাড়াছাডি নাই। এতো করের বোঝা সাধারন মানুষের জন্য কতটা অসহনীয় শুধু ঐ কর দাতাই জানেন। মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে যায় ,সোজা হয়ে দাঁড়ানোর উপায় নেই ।। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শুধু করের ধকল সহ্য করা। তারপরও ভেজাল মুক্ত কোনো কিছু পাচ্ছে না

ইংরেজরা এক সময় আমাদের শোষন করত , করের নামে আমাদের সবকিছুই লুটপাট করে নিয়ে যেত। যারা কর দিতে পারত না তাদের উপর নেমে আসত সীমাহীন অত্যাচার , চাবুকের নির্মম কষাঘাত। এরপর আসল পাকিস্তান , তারাও করল একি পন্থা। এই অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দেশ স্বাধীন হলো , অথচ সেই করের হাত থেকে আজও আমরা মুক্ত হতে পারিনি।

তবে বর্তমানের এই নতুন বাজেটে পর্যালাচনা করলেও কিছুটা পজিটিভ দিক লক্ষ্য করা যায়, যদিও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। আমাদের দেশে অনৈতিক ভাবে গড়া অর্থ সম্পদের মালিকের সংখ্যা ,নৈতিকভাবে গড়া অর্থ সম্পদের মালিকের চেয়ে অনেক বেশি। তারা একেক জন অনেক কোটি টাকার মালিক। তাদের অর্থের উপর যদি সঠিক কর ধার্য করা হয় , তাহলে মাননীয় অর্থ মন্ত্রী যে উদ্দেশ্যে কর বসিয়েছেন সেটার সঠিক বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু আমাদের দেশের অনৈতিকরা অনৈতিক ভাবে কর ফাঁকি দেয় । তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাহলে এই করের বোঝা কারা বইবে???
কাদের জন্য এই কর??
প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলেই দেখা যায় রাস্তা মেরামত নতুবা গ্যাস লাইনের সংযোগ কিংবা পানির লাইন সংযোগ । আস্ত খোঁড়াখুডি বিহীন রাস্তা কবে দেখেছি মনে পড়ছে না। আর যত প্লানিং হচ্ছে রাস্তা বানানো কিংবা ফ্লাইওভার ব্রীজ প্রকল্প । নির্মান হচ্ছে ফ্লাইওভার ,মেরামত হচ্ছে রাস্তা কিন্তু সাধারণ মানুষের দু্র্ভোগ আগের মতই। কমছে না বরং বাড়ছেই । অহেতুক দিনের পর দিন রাস্তা ব্লক করে রাখা। তবে মজার ব্যাপার আমাদের দেশে সরকারী স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়
নির্মানে কারো মাথা ব্যাথা নাই।যা আছে সেগুলো বাংলাদেশ সৃষ্টির আগের। জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারি বরাদ্ধকৃত আসন সংখ্যা বাড়ছে না। ফলে মাঝখান দিয়ে প্রাইভেট স্কুল, কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় গুলো গলা কাটছে সাধারণ মানুষদের। এটা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই ।অথচ জনগনের সেবা করার অঙ্গীকার নিয়ে সরকার গঠন হয়।
সরকারের বা কি দোষ দিব ?
সরকার কোনো প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প তৈরির দায়িত্ব যদি কারো উপর ন্যাস্ত করেন , সেখানে তারা আবার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেন । বাঁশ যেনো জনগনের জন্য সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়।
এক কথায় আমাদের দেশে সরকারি সব কিছুতেই ভয়াবহ অনিয়ম আর দুর্নীতি বিরাজমান।
এই অনিয়ম আর দুর্নীতির চেইন কি ভাঙা যায় না?
যেতো, যদি সত্যিকার অর্থে দেশপ্রেম থাকত।
বাজেট উপস্থাপনের পর মাননীয় অর্থ মন্ত্রীর মুখে এক প্রশান্তির হাসি ছিল। অনেক আত্মনির্ভরশীল হয়ে বললেন ,আমাদের দেশ উন্নতশীল দেশ গুলোর মধ্যে একটি। ফুল চন্দন পরুক উনার মুখে।
কিন্তু উন্নতশীল দেশের জনগনরা দেশ থেকে যে সুযোগ সুবিধা পাই ,অথচ আমাদের দেশের জনগনরা তার কিছুই পান না। সরকারি কোনো কাজ করতে গেলে তাকে ভুগতে হয় নানা ঝামেলা।
সেখানেও দিতে হয় কাজ আদায় করার জন্য দালালদের ভ্যাট মানে ঘুষ।
যেনো দেশে বসবাস করার আক্কেল সেলামি??
এবার আসা যাক.. ঈদের বাজার প্রসঙ্গ।।
কাপড় -চোপড়ের প্রতি আমার একটা দুর্বলতা কাজ করে। এই জন্য সারাবছর কম বেশি মার্কেটে যাওয়া হয়, কেনাকেটাও করা হয় মোটামুটি। তাই মার্কেটের কাপড় -চোপড় , অন্যান্য দ্রব্যাদির দাম মোটামুটি ভালই ধারনা আছে। কিন্তু যখনই ঈদ আসে তখনই দেখি সবকিছুর দাম দ্বিগুন হয়ে যায়।
অনেক সাধারন মানুষ আছে যারা , সারা বছর কেনাকাটা করে না,কিন্তু ঈদের অপেক্ষায় থাকে। ঈদ আসলে ছুটে আসে মার্কেট গুলোতে, নিজের জন্য, প্রিয় মানুষের জন্য ক্রয় করার জন্য। স্বপ্ন দেখে একরকম , ঈদের বাজার গুলোতে এসে সে স্বপ্নগুলো ভেগ্ঙে যায়। সাধ আছে তো সাধ্য নেই। ব্যবসায়িরা যেনো ছুরি নিয়ে বসে থাকে গলা কাটার জন্য। অথচ উন্নতদেশ গুলোতে ফেষ্টিবেল বলতেই ছাড় । সব মানুষদের জন্য ক্রয় ক্ষমতার সুযোগ তৈরি করে দেয়।।
ভালোবাসা এটাই দেশের প্রতি , মানুষের প্রতি।
বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ । এদেশে কিনা আছে- নদী নালা,সাগর, পাহাড় আর বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর। সব কিছু নিয়ে আমাদের বাংলাদেশ পরিবার। প্রয়োজন শুধু সততা আর ভালোবাসা। কারণ ভালোবাসা স্বর্গ থেকে আসে।
আমিও ভাবি তাই। যদি ভালোবাসায় বসবাসকারী মানুষ গুলো সঠিক ও শুদ্ধ হয়।

লেখক: কলামিস্ট




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close