শনিবার ২১ অক্টোবর ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » আমার আমি » ফিলিস্তিনে বিবাহের আমন্ত্রণপত্রে কনের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি


ফিলিস্তিনে বিবাহের আমন্ত্রণপত্রে কনের নাম অন্তর্ভূক্তির দাবি


সংবাদ সমগ্র - 11.03.2017

পূর্ব জেরুজালেম: বিবাহের আমন্ত্রণপত্রে কনের নাম বাদ দেয়ার ফিলিস্তিনি দীর্ঘদিনের ও বিতর্কিত ঐতিহ্যের পরিবর্তন আনার দাবি তুলেছে দেশটির নারীরা।

এই ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে শিক্ষিত তরুণী ও সমসাময়িক নারীরা বিদ্রোহ করছে এবং তারা দাবি করছে তাদের নাম বিবাহের আমন্ত্রণপত্রে অন্তর্ভূক্ত করার।

মারওয়া হুসাইন নামে নাবলুসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী বলেন, ‘আমি এমন কোন মানুষকে বিয়ে করব না; যিনি বিয়ের আমন্ত্রণে আমার নাম রাখতে রাজি হবেন না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি এই ঐতিহ্যের উপর জোর দিবে তিনি আমার জন্য যোগ্য পাত্র নয়।’

অধিকাংশ ক্ষেত্রে, দেশটিতে বিবাহের আমন্ত্রণে কনের নাম অন্তর্ভূক্ত করা এখনো একটি সামাজিক মর্যাদাহানি বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

এসাম হাম্মাদি নামে একজন বাবা বলেন, ‘আমি আমার মেয়ের বিয়ের আমন্ত্রণে কখনো তার নাম উল্লেখ করব না।’ এসাম হাম্মাদির মেয়ের ইতোমধ্যে বাগদান হয়ে গেছে এবং এক মাসের মধ্যে তার বিয়ে হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের উত্তরাধিকার সূত্রের একটি ঐতিহ্য এবং আমি যদি আমার মেয়ের নাম বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে লিখি তা সমগ্র সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা হতে পারে এবং এই চ্যালেঞ্জ নেয়ার সাহস আমি করব না।’
s

বিবাহের সময় নারীদের নাম বাদ দেয়ার এই রীতি ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। যদিও এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মুসলিম ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই।

এমনকি নারীরা যখন মারা যায় তখন তাদেরকে উল্লেখ করা হয় কোন ব্যক্তির স্ত্রী, কন্যা বা মা হিসাবে।

নাজাহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও সমাজসেবা বিভাগের প্রধান ড. সামাহ সালেহ বলেন, ‘নারীদের শুধুই ‘দেহ’ বিবেচনা করা হয় এবং যে কোন উপায়ে এই রীতি এড়িয়ে চলা উচিত।’

ফিলিস্তিনের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স ও আওকাফ মন্ত্রণালয়ের খতিব শায়খ নাবিল জানান, এই ঐতিহ্যের সঙ্গে ইসলামের কোন সম্পর্কই নেই।

তিনি বলেন, ‘বিপরীতভাবে, নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর স্ত্রী ও কন্যাদের এবং সাহাবীগণের স্ত্রী ও কন্যাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মুসলিম ইতিহাসের পুরোটা সময় তা ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তবে, অনেক ফিলিস্তিনি মনে করেন নারীর নাম পরিবারের সম্মানের একটি অংশ; যা সুরক্ষিত এবং গোপন রাখা উচিৎ।’

সেখানে কেন এই ঐতিহ্য গঠন করা হয়েছিল তা স্পষ্ট নয় কিন্তু এটি নিয়ে বর্তমানে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এই অনুশীলন নিছক দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সম্মান করার জন্য কিনা কিংবা এটা নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য হিসাবে দেখা উচিত কিনা তা নিয়ে বির্তক ওঠেছে।
নারীদের পরামর্শ ও আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর লিগ্যাল এইডের তথ্যানুযায়ী’ ২০১৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনে তথাকথিত ‘অনার কিলিং’ এর শিকার হয়েছে ৬৫ জন নারী এবং এর অধিকাংশই পরিবারের পুরুষ আত্মীয় দ্বারা সংঘঠিত হয়েছে।

ওইমেন সেন্টারের প্রধান আমাল আবু সরর বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত নারীদের মধ্যে ফিলিস্তিনি নারীরা অন্যতম কিন্তু হাস্যকর ভাবে তাদের নিজস্ব সমাজে তাদের মর্যাদা সর্বনিম্ন স্থানে।’

তিনি বলেন, ‘এটা দুঃখজনক কারণ ‘ইন্তিফাদা’র (ধর্মযুদ্ধ) সময় ফিলিস্তিনি নারীরা পুরুষের পাশাপাশি যুদ্ধ করে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যুদ্ধের জন্য পুরুষদের উৎসাহিত করতে নারীরা মূল ভুমিকা রেখেছে এবং তা প্রশংসিত হয়েছে কিন্তু ফিলিস্তিনের এই প্রথা এখনো বদল হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছুরই পরিবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এটি বাতিল করা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নারীর অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সমাজে নারীদের ভূমিকার গুরুত্ব বিবেচনা করে নারীদের সক্রিয় করতে নতুন একটি বিল পাস করা উচিৎ।’

গালফ নিউজ ডটকম অবলম্বনে




Loading...
সর্বশেষ সংবাদ


Songbadshomogro.com
Contact Us.
Songbadshomogro.com
452, Senpara, Parbata, Kafrul
Mirpur, Dhaka-1216


close